মাত্র চার বছর বয়সে ১৯৯৪ সালে বাবা-মায়ের হাত ধরে ফ্রান্সে পাড়ি জমিয়েছিল আহাসান উদ্দিন। তিন দশক পর সে এখন ফরাসি অভিনেতা। অভিনয় করলেন ‘ডেলোকালিজে’ সিনেমায়। এর গুরুত্বপূর্ণ ‘রাহুল’ চরিত্রে দেখা যাবে ঢাকার এই ছেলেকে।
আহাসান উদ্দিন বলেন, ‘প্যারিসে বড় হলেও বলিউড সিনেমা ছিল শৈশবের সঙ্গী। প্রতি সপ্তাহে কাকা নতুন ডিভিডি আনতেন। “কভি খুশি কভি গম” থেকে “কহো না প্যায়ার হ্যাঁয়”- সবই দেখেছি। আমাদের ডিভিডি প্লেয়ারটা চালু হলে বিশ্রী শব্দ করত, এখনও কানে বাজে।’
মাত্র ১০ বছর বয়সে প্রথম স্টেজে ওঠা, ‘এক পল কা জিনা’ গানে নাচ। অভিনেতার কথায়, ‘স্কুলে বলেছিল যা খুশি করো। আমি বলিউড নাচ বেছে নিয়েছিলাম। সেটাই আমার প্রথম পারফর্মেন্স।’
কিন্তু বাস্তবতা ছিল আলাদা। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাবার রেস্তোরাঁয় কাজ শুরু। পরের দিকে চাকরি, সংসার চালানো, আর স্বপ্ন ভুলে যাওয়া। সিনেমায় সুযোগ ছিল পুরোই সিনেমার মতো!
আহাসান উদ্দিন জানান, ২০২৩ সালে এক বন্ধু ফেসবুকে পাঠিয়েছিল একটি কাস্টিং বিজ্ঞাপন: দক্ষিণ এশীয়, সুদর্শন, বয়স ৩০-৫০ এমন কাউকে খুঁজছিল তারা। আহাসান ছবি পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু আশাই করেননি।
আহাসান বলেন, ‘কিছুই আশা করিনি। এক সপ্তাহ পর ফোন এলো। তারপর আবার। চূড়ান্ত অডিশনে নাচ, ইম্প্রোভাইজ সব করতে হলো। এরপর তারা বলল- আমরাই তো তোমাকে খুঁজছিলাম!’
সিনেমার গল্পের মূল চরিত্র রেদোয়ান। ফ্রান্সে তার প্রমোশন হওয়ার কথা ছিল, হঠাৎ কোম্পানিটা বন্ধ হয়ে যায়। তাকে বলা হয়- ম্যানেজার হতে হলে ভারতে যেতে হবে, বেতন ডাবল। রাজি হয়ে যায় রেদোয়ান। ভারতে গিয়ে রুপিতে ডাবল বেতন পেলেও, বাস্তবতা তাকে আঘাত করে। তখনই রাহুলের সঙ্গে দেখা, সহকর্মী হয়ে বন্ধুত্বের শুরু। রাহুল চরিত্রেই দেখা যায় আহাসানকে। শুটিংয়ের ফাঁকে ফ্লাইট ধরে ঢাকায় চলে আসা।
এদিকে, শুটিং ইউনিটে ভাষাগত সমস্যা ছিল। ভারতীয় ও ফরাসি অভিনেতারা পরস্পরের ভাষা বুঝতেন না। সেখানে অনানুষ্ঠানিক অনুবাদক ছিলেন আহাসান নিজেই। তবে এই অভিনেতার সিনেমাটা এখনও ‘ফুলটাইম’ হয়ে উঠেনি। পেশা হিসেবে তিনি ব্যবসায়ী।