সরকারের ভেতর থেকে কেউ অপপ্রচার চালালে জনগণ তাকে ক্ষমা করবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, ‘তারা দুর্নীতি করে না, আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরাতে সাহসী পদক্ষেপ নিচ্ছে। তাই কেউ যদি সরকারের ভেতর থেকে অপপ্রচার চালায়, জনগণ তাকে ক্ষমা করবে না।’
শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায় বরিশালের সদর রোডস্থ জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, এনসিপি রাজনৈতিক মতভিন্নতা দেখালেও বিএনপি কখনো প্রতিশোধে যায়নি। বরং আমরা ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের কথা বলেছি। এনসিপির ছাত্ররা গোপালগঞ্জ অভিমুখে মার্চের ঘোষণা দেওয়ায় শেখ হাসিনা যুবলীগ-ছাত্রলীগকে নির্দেশ দেন তাদের যেকোনো মূল্যে ঠেকাতে। এরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নামিয়ে দেওয়া হয়।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত শোক র্যালি-পূর্ব সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদ, মুগ্ধদের মতো শহীদরা যারা জীবন দিয়ে দানব শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছিল, তাদের স্মরণে আমাদের এই শোক র্যালি। শেখ হাসিনা নিজেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলেছেন— যা কিছু লাগে আন্দোলন দমন করো, আমি তাদের রক্ত দেখতে চাই। তারপরও পারলো না, তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে।’
আন্দোলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভূমিকা তুলে ধরে দলটির এ নেতা বলেন, ‘ছাত্রদের কোটা বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিতে তিনিই (তারেক রহমান) সকলকে আহ্বান করেছিলেন। এটাই গণতন্ত্রের ফাইনাল খেলা। তাই ঘরে ঘরে ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছে মা-বাবা ও ভাইবোনেরা।’
শহীদদের আত্মত্যাগকে তিনি ‘মহিমান্বিত আত্মত্যাগ’ হিসেবে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনার র্যাব, পুলিশ, সোয়াট বাহিনীর বুলেটে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা জীবন দিয়ে দেখিয়ে গেছে—এই দেশ ফ্যাসিস্টদের নয়, দানবদের নয়, রক্তপিপাসু শেখ হাসিনার নয়।’
তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আজীবন লড়াই করেছেন। এক সময় এরশাদের স্বৈরতন্ত্র মোকাবিলা করেছিলেন, আজ শেখ হাসিনার অবৈধ দমন-পীড়নের শিকার। তাকে বন্দী রাখা হয়েছিল এমন একটি কারাগারে, যেটি পূর্বে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল।’
রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ‘সরকারের বাহিনী কিছুই বলছে না। কিন্তু বিএনপি ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। খুলনা, চাঁদপুর, মসজিদের ইমামদের ওপর হামলার কোনো প্রতিবাদ নেই।’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে সোনার খনি ভাবেন, তাই তিনি দেশটিকে রক্তে ভাসিয়েও ছাড়তে চান না। তার ছেলে-মেয়ে, ঘনিষ্ঠজনদের নামে জমি ও অর্থপাচারের ঘটনা প্রমাণ করে সে কতটা লোভী।’
সমাবেশ শেষে বিকাল ৫টায় এক শোক র্যালি বের হয়। এতে অংশ নেন জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান বর্ষপূর্তি উদ্যাপন কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক রুহুল কবির রিজভী, সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা। র্যালিটি সদর রোড হয়ে আমতলার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।