মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক পরমাণু কূটনীতিতে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরানকে জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা পুনরায় কার্যকর করার নির্ধারিত সময়সীমা (স্ন্যাপব্যাক) বাড়ানোর একক প্রস্তাব দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
গতকাল বৃহস্পতিবার ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাইজা ক্যালাসও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় ক্যালাস ইঙ্গিত দেন, ইরান যদি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা পুনরায় শুরু করে এবং তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখে, তাহলে চুক্তির আওতায় জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা সক্রিয় করার সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো হতে পারে।
একই বিষয়ে অ্যাক্সিওস জানায়, ইউরোপের তিন দেশ এবং ইরানের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকরা আগামী সপ্তাহে এক বৈঠকে বসতে পারেন, যার স্থান হতে পারে ভিয়েনা বা জেনেভা।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস আরও জানায়, ওই বৈঠকে ইরান পক্ষ থেকে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি ও মজিদ তাখত রাভানচি অংশ নিতে পারেন।
এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইউরোপের তিন দেশের পক্ষ থেকে আসা আলোচনার প্রস্তাব বর্তমানে পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে। তবে বৈঠকের সময় ও স্থান এখনও নির্ধারণ হয়নি। তাসনিম নিশ্চিত করেছে, আলোচনাটি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, স্ন্যাপব্যাক সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবটি একবারের জন্য দেওয়া হয়েছে। তবে তা কার্যকর করতে হলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়ার সম্মতি প্রয়োজন হবে।
পত্রিকাটির সাংবাদিক লরেন্স নরম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লেখেন, ‘ইরান কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।’
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির আওতায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী, চুক্তিভুক্ত যেকোনো দেশ—যেমন ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া বা চীন—ইরানের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনতে পারে। যদি ৩০ দিনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখা নিয়ে সম্মতি না হয়, তাহলে পূর্ববর্তী সব জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা পুনরায় কার্যকর হবে—যাকে বলা হয় “স্ন্যাপব্যাক।” এর আওতায় অস্ত্র রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা, পণ্যবাহী জাহাজ পরিদর্শন এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর বিধিনিষেধ ফের চালু হবে।
অন্যদিকে, সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ইউরোপীয় পক্ষ যদি জাতিসংঘের স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়া পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নেয়, তবে ইরানও উপযুক্ত ও তুলনামূলক জবাব দেবে।’