পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘদিনের সংঘর্ষ অবসানের লক্ষ্যে এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে যাচ্ছে কঙ্গো সরকার। আজ শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চারটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে এমনটি জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চুক্তিটি এমন এক সময়ে হচ্ছে— যখন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দ্রুত শান্তিচুক্তি করতে ব্যাপক চাপ দেওয়া হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব কঙ্গোর সমৃদ্ধ অঞ্চলে শান্তি স্থাপন করা গেলে পশ্চিমা বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মুক্ত হবে। যেখানে ট্যানটালাম, স্বর্ণ, কোবাল্ট, কপার ও লিথিয়ামের মতো মূল্যবান খনিজের মজুদ রয়েছে।
এর আগে গত জানুয়ারিতে রুয়ান্ডার সমর্থনে কঙ্গোর এম২৩ বিদ্রোহীরা দেশটির প্রধান শহর গোমা দখল করে। পরবর্তীতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীট দেশটির উত্তর ও দক্ষিণ কিভু প্রদেশের বিশাল অঞ্চল দখলে নেয়।
রয়টার্স বলছে, দখলকৃত অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষে চলতি বছর হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এতে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যেহেতু কঙ্গোর প্রতিবেশী একাধিক দেশের সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে সেখানে মোতায়েন রয়েছে।
চলতি বছরের মার্চে কাতারের উদ্যোগে কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেডি ও রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামের মধ্যে একটি আকস্মিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ‘তাৎক্ষণিক ও শর্তহীন’ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়।
এরপর থেকেই দোহায় সরাসরি কঙ্গো ও এম২৩ এর মধ্যে আলোচনা শুরু হয়, যদিও আগে কঙ্গো সরকার এম২৩-কে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বলে বিবেচনা করে আলোচনার পথ বন্ধ রেখেছিল।
সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ঘোষিত হতে যাওয়া শান্তিচুক্তির নীতিমালায় একটি তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, দীর্ঘমেয়াদী শান্তির জন্য আলোচনা শুরুর প্রতিশ্রুতি, স্থায়ী যুদ্ধবিরতির একটি কাঠামো এবং পূর্ব কঙ্গোতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার রোডম্যাপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে এম২৩ সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, শান্তিচুক্তিতে বিদ্রোহীদের সেনা প্রত্যাহার সংক্রান্ত কোনো উল্লেখ নেই।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২৭ জুন কঙ্গো ও রুয়ান্ডার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ওয়াশিংটনে শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন এবং হোয়াইট হাউসে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেসময় চুক্তি লঙ্ঘিত হলে ‘অত্যন্ত কঠোর আর্থিক ও অন্যান্য শাস্তি’ আরোপের হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প।
‘ওয়াশিংটন অ্যাকর্ড’ নামে একটি বৃহৎ চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে জুলাইয়ের শেষদিকে, যেখানে ট্রাম্প কঙ্গো ও রুয়ান্ডার রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
রয়টার্স বলছে, দোহায় ঘোষিত এই নীতিমালা শান্তি প্রক্রিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে—বিশেষ করে এম২৩-এর ভবিষ্যৎ ভূমিকা, রুয়ান্ডার সম্পৃক্ততা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষদের পুনর্বাসন। কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিবিড় নজরদারিতে এই আলোচনার পরবর্তী ধাপগুলোই নির্ধারণ করবে, পূর্ব কঙ্গো আদৌ শান্তি পাবে কি না।