মানদণ্ড দরকার, তার সঙ্গে এবং এর চেয়ে বেশি করে দরকার মেরুদণ্ড। মানুষ যে মানুষ, তার প্রথম কারণগুলোর একটি হচ্ছে তার মেরুদণ্ড আছে, সে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তার হাত দুটো মুক্ত, যা দিয়ে সে পারে সৃষ্টি করতে। আর সৃষ্টি করতে গিয়েই তার বুদ্ধি বাড়ে। বাঙালির মেরুদণ্ড শক্ত নয়। শক্ত হওয়ার কারণ নেই। কৃষকের মেরুদণ্ড ভাঙার আয়োজন বেশ পাকাপোক্ত। আগেও ছিল, এখনও রয়েছে। কিন্তু কৃষক এ-সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করে না। নিয়ন্ত্রণ করে মধ্যবিত্ত। এই মধ্যবিত্তের মেরুদণ্ডও খুব দুর্বল। সে যে গড়ে উঠেছে তা ব্যবসা-বাণিজ্যের মধ্য দিয়ে নয়, শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠাও তার পক্ষে ছিল প্রায় অসম্ভব। তাকে নির্ভর করতে হয়েছে শিক্ষার ওপর, যে শিক্ষার উদ্দেশ্য চাকরি পাওয়া। চাকরির ক্ষেত্রে যোগ্যতার তুলনায় চাটুকারিতা তো বটেই, এমনকি প্রতারণাও কম কার্যকর নয়। হাত আটকা পড়ে গেছে হাত-কচলানোতে, পারলে পদধূলি গ্রহণে।
সামন্তবাদী পরিবেশে মানুষকে নত হয়ে থাকতে হবে, এটা অস্বাভাবিক নয়। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল উপনিবেশবাদ। উভয়ে মিলে পীড়ন করেছে মেরুদণ্ডকে। অবনত অবস্থাতে আত্মোন্নতি সম্ভব, এই ধারণা বদ্ধমূল হয়ে দাঁড়িয়েছে। না হয়ে উপায় ছিল না। মেরুদণ্ড শক্ত করার জন্য অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য প্রয়োজন। আমাদের অর্থনীতি নাগরিকদের মেরুদণ্ড গঠনে সাহায্য করেনি। বরং উল্টোটা করেছে। দেখা গেছে, যারা উৎপাদন করে তাদের পক্ষে নত হয়ে থাকা ছাড়া উপায় খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি। মেরুদণ্ডের জন্য কেবল অর্থনীতি নয়, নীতিও জরুরি বটে। মানুষ বিত্তবান হলেই নীতিবান হবে এমন কোনো কথা নেই। বরং উল্টোটাই ঘটা সম্ভব। মানুষের সংজ্ঞা ঠিক করতে গিয়ে বলা হয়েছে যে, মানুষ হচ্ছে যুক্তিবাদী প্রাণী। তা ঠিক। কিন্তু কেবল যুক্তিবাদী হলেই যে মনুষ্যত্ব রক্ষিত, এমনকি অর্জিতও হবে তা বলা যায় না। কেননা, যুক্তি কূটযুক্তিতে পরিণত হতে পারে এবং ন্যায়কে ছেড়ে পক্ষাবলম্বন করতে পারে অন্যায়ের, যদি নৈতিকতার খবরদারি না ঘটে। আসলে নীতি না থাকলে মানুষ দাঁড়াতে পারে না, তা সে যতই বিত্তবান কিংবা যুক্তিবাদী হোক না কেন। আর এই যে নৈতিকতা এটা যে ব্যক্তিই লালন ও পালন করে তা ঠিক, তবু ব্যক্তি যে একাকী তার নৈতিক জীবনকে রক্ষা করবে এটা কিছুতেই সম্ভব নয়। বলা বাহুল্য, আমরা সামাজিক মানুষের কথাই ভাবছি, সন্ন্যাসী কিংবা অরণ্যচারী ব্যতিক্রমীদের কথা নয়। বাংলাদেশের মানুষ অতি চমৎকারভাবে শিরদাঁড়া শক্ত করে দাঁড়িয়েছিল একাত্তর সালে। যখন তারা যুদ্ধ করল এবং জয়ী হলো। একত্রে দাঁড়িয়েছিল, একটা নৈতিক শক্তির ভিত্তিতে। যুদ্ধের সময় এই নৈতিক শক্তি প্রকাশ পেয়েছিল, যুদ্ধের পরেও তা অল্প কয়েক দিন টিকে ছিল। বাংলাদেশের জন্য সেটা একটা কঠিন দুঃসময়, এমন খারাপ সময় এ দেশে আগে কখনো এসেছে কি-না সন্দেহ। দুটোই দরকার, যেমন মানদণ্ড চাই, তেমনি চাই মেরুদণ্ড। মেরুদণ্ডের প্রয়োজন অবশ্য সর্বাগ্রে, নইলে আমরা দাঁড়াব কী করে, কার সাহায্যে? আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসটা সংকীর্ণ সময়ের, রাজনৈতিক স্বাধীনতার বয়স চল্লিশ বছর হয়নি; পরাধীনতার ইতিহাস শত শত বছরের পুরনো ও দীর্ঘ। পরাধীনতা যে কাজটা সর্বাগ্রে করে সেটা হলো, পরাধীনের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া। আমাদের মেরুদণ্ডও ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। আমরা উঠে দাঁড়াবার চেষ্টা করেছি, রুখে দাঁড়িয়ে। এখনো যে সফল হয়েছি তা বলা যাবে না।
কিন্তু কোন মানদণ্ডে? সেটাও ঠিক করা চাই। মানদণ্ডটা ঠিক করা থাকে না। কেবল সংজ্ঞা নিরূপণ নয়, নিরূপিত সংজ্ঞাকে প্রয়োগও করতে হয়। ধরা যাক, ওই স্বাধীনতার ব্যাপারটাই। একাত্তরে যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন হলো, রাষ্ট্রের নাম পতাকা জাতীয় সংগীত রাষ্ট্রভাষা সংবিধান সবই এই স্বাধীনতার ঘোষক বটে; কিন্তু দেশ কি এখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন, নাকি একদিকে উন্মুক্ত বাজারের এবং অন্যদিকে, যেটা অধিক জরুরি, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের অধীন হয়ে পড়েছে? দাতারা আসলে সাহায্যদাতা নয়, তারা সুদের বিনিময়ে ঋণদাতা। ধার দেয়, সুদ নেয় এবং ঋণ পেতে হলে কী কী করতে হবে বলে দেয়। এবং ওই যে ঋণ দিল, তার একটা অংশ চলে যায় বিশেষজ্ঞ ও যন্ত্রপাতি কিনতে এবং আগের ঋণের সুদ মেটাতে। দেশের ভেতর কারা স্বাধীন? গরিব মানুষ কোন দিক দিয়ে স্বাধীন? অল্প কিছু মানুষই স্বাধীন হয়েছে, হিসাব করলে বলা যাবে; এরা বেশ স্বাধীনভাবে বিকশিত হয়েছে, নকল করে। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলি, অবশ্যই বলতে হবে, কেননা ওই চেতনা ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ দাঁড়ায় কীসের ওপর? ওই যুদ্ধে প্রতিরোধ ছিল। পাল্টা আক্রমণ ছিল, ছিল সশস্ত্র ও ভয়ংকর সংগ্রাম। কিন্তু যুদ্ধের একটা লক্ষ্যও নিশ্চয়ই ছিল, সেই লক্ষ্য হলো মানুষের মুক্তি, যার প্রধান শর্ত হচ্ছে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা। সেটা আসেনি। সেটা না হয় বোঝা গেল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষ বলে যারা দাবি করেন, তাদের দাবির যৌক্তিকতা নিরূপণ করব কীভাবে? একাত্তরে যারা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন তারা সবাই যে একই চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন তা বলা যাবে না। আর যারা দেশের ভেতরে ছিলেন তারা সবাই যে শত্রু-শিবিরের লোক ছিলেন, তা-ও নয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তি বলে যারা বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনে ভোট দাবি করেন, তারা খুবই অন্যায় কাজ করেন। নিজেদের নির্বাচন যোগ্যতাকে কিংবা অযোগ্যতাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে-বিপক্ষে রায় হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিতে চান। যেন তারাই নিরিখ। অথবা হতে পারে যে, মুখে যাই বলুন আদৌ তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক নন। পক্ষের লোক হলে, তাদের অন্তরের বিশ্বাসকে বাইরের পণ্যে পরিণত করতেন না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একটা মূল ব্যাপার হলো, ঐক্যের অনুভূতি। ঐক্য সাধারণ শত্রুর বিরুদ্ধে। এই শত্রু সেদিন ছিল বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থা, যে-রাষ্ট্র ছিল আমলাতান্ত্রিক, পুঁজিবাদী ও সাম্প্রদায়িক, যে-জন্য নতুন রাষ্ট্রের মূলনীতিতে জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানদণ্ড ওই চারটি মূলনীতি। ওই মূলনীতিতে যারা বিশ্বাস করে না, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে আছেন এমনটা বলা যাবে না। আমাদের শাসক দলগুলো তো সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস বিসর্জন দিয়েছে এবং রাজনীতিতে ধর্মকে বিলক্ষণ ব্যবহার করছে। নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধকে ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করার সবচেয়ে বড় অন্যায় হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কের বিষয়ে পরিণত করা; যারা এটা করেন তারা অত্যন্ত দায়িত্বহীন। উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু উন্নতির নিরিখটা কী? যে ব্যবস্থায় অল্প কিছু লোক উন্নত হচ্ছে বাদবাকিদের ক্রমাগত অবনত করে দিয়ে, তাকে আমরা উন্নয়ন বলব কোন যুক্তিতে? উন্নয়নের কথা আমরা আগে খুব শুনেছি, আইয়ুব খান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরশানামলে রাস্তাঘাট, দালানকোঠা অনেক উঠেছে। অনেকে বলেন, সেসব ছিল উন্নতির চমৎকার লক্ষণ। বিগত সরকারের শাসনামলে তেমন কথা শোনা গেছে, এখানে সেখানে। কিন্তু স্বৈরশাসন মানেই তো হচ্ছে জনগণের সম্পত্তি লুণ্ঠন, যা অল্প মানুষকে স্ফীত করে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে নির্যাতিত করে। আমাদের দেশে সড়কপথের উন্নতি ঘটেছে, রেল ও নদীপথের উন্নতিকে অবরুদ্ধ করে। এর ফলে না বেড়েছে গতি, না বেড়েছে সহজ চলমানতা।
সবচেয়ে বড় সত্য এই যে, পেট্রোল-চালিত যানবাহনের দাপটে পরিবেশের সর্বনাশ ঘটেছে, অপরিকল্পিত সড়ক নির্মাণে বৃক্ষনিধন সাধিত হয়েছে এবং পানি-বদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। উন্নতি যা ঘটেছে তা হলো ব্যক্তির, সেই উন্নতির দাপটে সামাজিক সম্পত্তি, যেমন নদী বনভূমি খাল-বিল রাষ্ট্রীয় কল-কারখানা সবকিছু ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। মানদণ্ডের এ ব্যাপারটা আমাদের জন্য কখনোই স্পষ্ট ছিল না। যে জন্য আমাদের দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ইংরেজের অধীন হওয়াকে মুক্তির পথ বলে মনে করেছেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে; তাদের নিজেদের অগ্রগতিকে ভেবেছেন সমগ্র দেশের অগ্রগতি, খেয়াল করেননি যে, পরাধীনতা আমাদের অর্থনৈতিক জীবনের জন্য কী অভিশাপ বহন করে এনেছিল, এটাও তলিয়ে দেখেননি যে, পরাধীনতা জাতীয় মেরুদণ্ডের জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে। আমাদের সমাজের মানুষ হওয়ার কথা আগেও বলা হয়েছে, এখনো বলা হচ্ছে। কিন্তু মানুষ কাকে বলে সেই বিষয়টা স্পষ্ট করা হয়নি। মানুষ বলতে বড় মানুষ বোঝানো হয়েছে, ভালো মানুষ না বুঝিয়ে। বড় মানে হচ্ছে টাকা-পয়সায় বড়, পারলে দৈত্যের মতো বড়। এই প্রকাণ্ড ব্যক্তিত্ব ভয় দেখিয়ে চলে, জয় দেখাবার সাধ্য তার নেই। অথচ সবাই চায় এর মতো হবে। ভালো মানুষ হওয়া মানে হচ্ছে নিজের জন্য তো বটেই, আপনজনদের জন্যও বিপদ ডেকে আনা, গরিব হয়ে থাকা, এই গরিবের দেশে আরও গরিব হতে চায় কোন বোকা। কিন্তু এই যে মানুষ তৈরির নাম করে কেবলই বড় মানুষ অর্থাৎ স্বার্থপর প্রাণী সৃষ্টিতে ব্রতী হয়েছে, তার পরিণাম তো ভালো হতে পারে না। ভালো হয়ওনি। শাসন ক্ষমতা চলে গিয়েছে দৈত্য ও রাক্ষসদের হাতে।
মানুষ আগেও মারা গেছে, মন্বন্তরে; কিন্তু সরাসরি যুদ্ধে নয়। যুদ্ধের পরে সদ্যমুক্ত বাংলাদেশে এমন একটি আশ্চর্য পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল যেটি অতুলনীয়। আইন-শৃঙ্খলার কোনো সমস্যা নেই। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে না, সর্বোচ্চ বেতন এক হাজার টাকা, তাতেই মানুষ সন্তুষ্ট; অনেক কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না, কিন্তু কেউ পরোয়া করছে না, অভাবকে অভাব মনে হচ্ছে না তাদের। সামনে রয়েছে সুন্দর ভবিষ্যৎ। সেই সময়টাতে পুরনো রাষ্ট্র ভেঙে পড়েছে, নতুন রাষ্ট্র তৈরি হয়নি। সরকার বলতে তেমন কিছু নেই। তবু শাসন ছিল, উচ্চতর নৈতিকতার শাসন। ওই নৈতিকতা হলো, পারস্পরিক মৈত্রীর। কেউ কারও শত্রু নয়, সকলেই সকলের বন্ধু। পরস্পরকে সাহায্য করবে, প্রস্তুত রয়েছে যে কোনো আত্মত্যাগের জন্য, যেন প্রতিযোগিতাতে নামতে চায় দেশ গড়ার কাজে। বাংলাদেশ তখন নতুন ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে, সারা পৃথিবীতে তার সেদিন যে সম্মান সেটা তুলনা পূর্বের ইতিহাসে বিরল। ওই সুনাম সূক্ষ্ম মসলিনের কারণে নয়, সংগ্রামী মানুষের নৈতিকতার কারণে। মনে হয়েছিল এই প্রথমবারের মতো বাঙালি উঠে দাঁড়িয়েছে, বহু শতাব্দীর পীড়নে তার বাঁকা মেরুদণ্ড সোজা করে। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ মাত্র। ১৬ ডিসেম্বরের পর তিন-চার সপ্তাহ এই পরিবেশ টিকে ছিল। তারপর চলে এলো নতুন সরকার এবং পুরনো ইতিহাস। অবৈধ দখল, কলকারখানা লুটপাট, পূর্বশত্রুতার মীমাংসা, চাকরিতে উন্নতি, পণ্যে ভেজাল, পরীক্ষায় নকল সবকিছু শুরু হয়ে গেল বিপুল বিক্রমে। জিনিসপত্র উধাও হয়ে গেল বাজার থেকে। দাম বাড়ল অবিশশ্বাস্য গতিতে। অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে নৈতিকতা শক্তিশালী হয়েছিল তার ভাঙচুর ঘটল। সকলে প্রত্যেকের এবং প্রত্যেকে সকলের জন্য কাজ করার মানসিকতার জায়গায় এলো ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির প্রচণ্ড ও দুর্দমনীয় লালসা। এর দায়িত্বটা জনগণের নয়, দায়িত্ব নেতৃত্বের। এ একটি ঐতিহাসিক ব্যর্থতা বটে। জয় যেমন ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল, পরাজয়ও ঘটল তেমনি অত্যন্ত করুণ। নৈতিকতার প্রয়োজন। মেরুদণ্ড আসলে ওই নৈতিকতাই। কিন্তু তাকে বিকশিত ও রক্ষা করার উপায় কী? একটা সত্য খুবই স্পষ্ট যে, নৈতিকতা ব্যক্তির একক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব। আজকের দিনে বিশ্ব গেছে অত্যন্ত ক্ষুদ্র হয়ে। এবং পুরো পৃথিবী চলে গেছে পুঁজিবাদী নৈতিকতার অধীনে। এই নৈতিকতা মুনাফা চেনে, মনুষ্যত্ব চেনে না। ভোগ বোঝে, সহমর্মিতা বোঝে না। বাংলাদেশের মানুষ এই নৈতিক শাসনেরই অন্তর্গত। নানাভাবে ব্যক্তিগত মুনাফা ও ভোগবাদিতা প্রশ্রয় পায়, যার ফলে লুণ্ঠন হয়ে দাঁড়ায় সর্বজনীন আদর্শ।
লেখক: ইমেরিটাস অধ্যাপক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়