স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, গোপালগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় গণগ্রেপ্তার হচ্ছে না। যারা দোষী তাদেরই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক আছে। এই আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে নির্বাচন করা যাবে।
আজ রবিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন ও তৎসংলগ্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ সভা শেষে তিনি এসব কথা বলে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের পর এই জেলায় জারি করা ১৪৪ ধারা পর্যায়ক্রমে উঠিয়ে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর গুলি ছোড়া নিয়ে এক প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, যে সময় যে পরিস্থিতি ওই ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, গোপালগঞ্জে আস্তে আস্তে ১৪৪ ধারা উঠিয়ে নেওয়া হবে। অন্যায় করলে গ্রেপ্তার হতে হবে। আমি একটি কথাই বলেছি, কোনো অবস্থায় যেন দুষ্কৃতকারী ছাড়া না পায়। আর যে অপরাধ করেনি সে যেন ধরা না পড়ে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, গোপালগঞ্জে ঘটনা যে ঘটেছে সেটি তো আমি অস্বীকার করছি না। এটা তো রাজনীতি। রাজনীতি করতে গেলে তো অনেক কিছু অনেক সময়... আগে যখন আমরাও (রাজনীতি) করেছি তখন ইউনিভার্সিটিতে তো কত ধরনের ঘটনা হয়েছে। ঘটনার পরে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না সেটি হচ্ছে আমাদের কথা, আমরা ব্যবস্থা নিতে পারছি কি না।
গোপালগঞ্জে মৃত্যুর ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি জানিয়ে একজন সাংবাদিক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। উপদেষ্টা বলেন, পুলিশ মামলা করবে কি করবে না, একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে তারা বলবে। গোপালগঞ্জে গণগ্রেপ্তার হচ্ছে না। যারা অন্যায় করেছে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
গোপালগঞ্জের ঘটনায় নয়জন শিশুকেও আটকে রাখা হয়েছে বলে তথ্য দেন একজন সাংবাদিক। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এ রকম কোনও খবর আমার কাছে নেই। এরপর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানতে চান কোনও গণমাধ্যমে এ ধরনের প্রতিবেদন হয়েছে।
রবিবার ছাত্রলীগের হরতাল নিয়ে এক প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লীগের তরফ থেকে একটি হরতাল ডাকা হয়েছে, হরতাল কি হয়েছে কি না সেটা বলেন? দুইটি গাড়ি ই (পোড়ানো) হয়েছে সত্যি কথা। নাশকতাটা হয়েছে। অন্যান্য হরতাল কল (আহ্বান) করার সময় এই নাশকতাটা আরও বেশি হয়েছে। তার থেকে আমরা (নাশকতার পরিমাণ) অনেকটা কমিয়ে আনতে পেরেছি কি না, সেটি আপনারা দেখবেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগামী ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিলে জাতীয় নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পারবে কি না, সেই প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না কেন? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেই প্রস্তুতি, আরও তো অনেক সময় রয়ে গেছে। আমাদের প্রস্তুতি রয়ে গেছে, আমাদের ট্রেনিং হচ্ছে, আমরা ট্রেনিং করিয়ে দিচ্ছি। আমরা তো প্রস্তুতি নিয়ে নিচ্ছি। আল্লাহ দিলে (নির্বাচন) করতে কোনো অসুবিধা হবে না।