দক্ষিণ-পূর্ব তিব্বত অঞ্চলের ইয়ারলুং ঝাংবো নদীতে বিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু করেছে চীন, যা ভারতে ব্রহ্মপুত্র নামে প্রবেশ করেছে। নির্মিত হতে যাওয়া ১৬৭.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই প্রকল্পে থাকবে মোট পাঁচটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম শিনহুয়া জানায়, শনিবার এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বেইজিং এই প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। দেশটির ন্যিংচি অঞ্চলের এ প্রকল্প ভারতের অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তের কয়েক কিলোমিটার দূরেই অবস্থিত। চীনের এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অবস্থান ও সময় নির্ধারণ ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
চাপে ভারত
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, এই প্রকল্প শুধু পরিবেশগত বা প্রযুক্তিগত ঝুঁকি নয়, বরং এটি উত্তর-পূর্ব ভারতকে একটি কৌশলগত চাপে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। এর মাধ্যমে চীন কার্যত ভারতের পানি নিরাপত্তার ওপর একপ্রকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।
যদিও বেইজিং এ ধরনের ‘নেতিবাচক প্রভাব’-এর কথা অস্বীকার করেছে। চীনা সংবাদ সংস্থা শিনহুয়া জানিয়েছে, এই প্রকল্প থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ তিব্বতের পাশাপাশি চীনের অন্যান্য অঞ্চলেও সরবরাহ করা হবে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এটি চীনের বর্তমান বৃহত্তম থ্রি গর্জেস বাঁধকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নাকি ‘জলবোমা’
এদিকে চীনের এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে ‘জলবোমা’ আখ্যা দিয়েছেন অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু। তিনি বলেন, ‘এটি এ অঞ্চলের মানুষের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। চীনকে বিশ্বাস করা যায় না। কেউ জানে না তারা কখন কী করে বসবে।’
তিনি বলেন, ‘চীনের এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সামরিক হুমকির চেয়েও বড় সমস্যা হতে পারে। এটি আমাদের উপজাতি সমাজ ও জীবিকার জন্য সরাসরি হুমকি। বিশেষ করে, যদি তারা হঠাৎ পানি ছেড়ে দেয়, তাহলে সিয়াং নদীর উপত্যকা অঞ্চল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। আদি জনগোষ্ঠী ও আশেপাশের উপজাতিদের জীবন, সম্পত্তি, জমি সবকিছু বিপন্ন হবে।’
পেমা খান্ডু আরও বলেন, চীন কোনো আন্তর্জাতিক পানি ভাগাভাগির চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী নয়, যা তাদেরকে আন্তর্জাতিক নিয়ম মানতে বাধ্য করবে।
ভারত কী বলছে?
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই প্রকল্প নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জানুয়ারিতে এক বিবৃতিতে তারা জানায়, আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি এবং ভারতের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর জবাবে জানিয়েছিল, প্রকল্পটি নিম্ন অববাহিকার দেশগুলোর ওপর কোনো ‘নেতিবাচক প্রভাব’ ফেলবে না এবং তারা সেসব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখবে।
উল্লেখ্য, চীন ও ভারত— এই দুই এশীয় পরাশক্তির মধ্যে একটি দীর্ঘ ও বিতর্কিত সীমান্ত রয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষের সৈন্যরা কড়া নজরদারিতে অবস্থান করছে। এমন প্রেক্ষাপটে চীনের এই পদক্ষেপকে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।