ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে বিআরটিএ’র অভিযান 

রাজধানীসহ সারা দেশের সড়ক-মহাসড়ক থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন সরাতে রবিবার থেকে অভিযান জোরদার করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এই অভিযানে অসন্তুষ্ট পরিবহন মালিকরা ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন। সড়ক পরিবহন আইনের অনেক ধারা সংশোধনের দাবিও জানিয়েছেন তারা। 

গত মে মাসে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন সরানোর সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও বিআরটিএ কোনো কার্যকরী অভিযান পরিচালনা করতে পারেনি। এ নিয়ে শুধু বিআরটিএ নয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগেরও কঠোর সমালোচনা হয়েছে। এর দেড় মাস সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরে গতকাল রবিবার থেকে মাঠে নেমেছে বিআরটিএ। এ অভিযানে পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতাও পাওয়া যাচ্ছে।

রবিবার দুপুরে সড়কে যখন এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছিল, তখন রাজধানীর পরীবাগে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির প্রধান কার্যালয়ে হাজির হন প্রভাবশালী বাস মালিকরা। 

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মো. কফিল উদ্দিন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। সভায় সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম। 

সভায় ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরি সভাপতি এম এ বাতেন, কোষাধ্যক্ষ এ এস এম আহম্মেদ খোকন, প্রচার সম্পাদক সাইদুর রহমান বাবু, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক জনাব হুমায়ূন কবির, সোহাগ পরিবহনের মালিক ফারুক তালুকদার সোহেল, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আবদুর রহিম বক্স দুদু উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই নানা দাবিতে কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শিমুল বিশ্বাসকে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে পরতে হয়।

তখন শিমুল বিশ্বাস ও সাইফুল আলম বাসমালিকদের জানান, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ অনুসারে সড়কে লক্করঝক্কর বাসের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে বিআরটিএ। বাস মালিক সমিতিও চায় সড়ক থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ বাস সরিয়ে নিতে। এতে সমিতি সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে। এ নিয়ে অনেক কথা কাটাকাটির পরে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বাংলাদেশ বাস মালিক সমিতি থেকে বাস ও পণ্য পরিবহনকারী ট্রাকের আয়ুষ্কাল অন্তত ৫ বছর করে বাড়াতে সরকারের কাছে আবেদন জানাবে। সড়ক আইন অনুযায়ী, একটি বাসের সর্বোচ্চ আয়ুষ্কাল ২০ বছর। পণ্য পরিবহনের ট্রাকগুলোর আয়ুষ্কাল ২৫ বছর। 

সভায় শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‘বিগত সরকারের আইনে বাণিজ্যিক মোটরযানের মধ্যে বাসের ইকোনোমিক লাইফ ২০ এবং ট্রাকের লাইফ ২৫ বছর করা হয়েছে। এ আইনটি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পরিবহন সেক্টরে অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে। এতে করে ৭০ ভাগ গাড়ি বন্ধ হয়ে যাবে। এত গাড়ি ডাম্পিং করার জায়গাও বাংলাদেশে নেই। তাছাড়া এত গাড়ি এক সাথে বন্ধ হয়ে গেলে পরিবহন সেক্টরে এমনিতেই অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে।’

বাসের অর্থনৈতিক মেয়াদকাল নিয়ে বাস মালিকদের দাবির পক্ষে সম্মতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গাড়ির তিনটি ফ্যাক্টর কাজ করে। সেগুলো হলো, লুব্রিকেন্ট, মোবিল, ও ইঞ্জিন। এই তিনটা জিনিস ঠিক থাকলে কালো ধোঁয়া হয় না। বিআরটিএ পরীক্ষা করে দেখুক, যেসব গাড়িতে তারা এসব ত্রুটি পাবে সেগুলো ফিটনেস তারা দিবে না। কিন্তু যেগুলো গাড়ির ফিটনেস আছে সেগুলো বয়সের ভিত্তিতে চলাচলের অযোগ্য ঘোষণা করা ঠিক হবে না।’

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক কাজী মো. জুবায়ের মাসুদ এখন গাজীপুর পরিবহনের মালিক। তিনি বলেন, ‘আগে গাড়ির জন্য আমাকে মাসে সাড়ে ১১ হাজার টাকা দিতে হত। এখন আমাকে ট্যাক্স বাবদ ২০ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। এই ট্যাক্স কমাতে আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছি। সরকার যদি এটা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সমাধান করতে না পারে, তাহলে একটা স্ট্রাইকের (ধর্মঘট) আশঙ্কা করতে পারেন যাত্রীরা। তাছাড়া, ২০১৮ সালে প্রণীত সড়ক পরিবহন আইনে কয়েকটি ধারায় বলা হয়েছ, সড়কে দুর্ঘটনার দায়ে চালক গ্রেপ্তার হলে জামিন পাবেন না। এ ধারা বাতিলেও দাবিও এখন জোরদার করা হবে। 

তিনি আরও বলেন, ‘এ ধারাটি বহাল রাখায় আমরা বাসমালিকরা এখন চালক পাচ্ছি না। পর্যাপ্ত বাস চালক না থাকায় সড়কে ঠিকমত বাস চালাতে পারছি না।’