গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সাথে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনায় কোন গণ-গ্রেপ্তার হচ্ছে না। যারা দোষী তাদেরই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক আছে। এই বাহিনী দিয়েই নির্বাচন করা যাবে। আল্লাহ দিলে নির্বাচন করতে অসুবিধা হবে না।
রবিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন ও তৎসংলগ্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ সভা শেষে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব,) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সেনাবাহিনীর গুলি ছোড়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে সময় যে পরিস্থিতি ওই ব্যবস্থা নিতে হবে। গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্যায় করলে সে গ্রেপ্তার হবেই। আমি একটি কথাই বলেছি, কোনো অবস্থায় যেন দুষ্কৃতকারী ছাড়া না পায়। আর যে অপরাধ করেনি সে যেন ধরা না পড়ে। গোপালগঞ্জে ঘটনা যে ঘটেছে সেটি তো আমি অস্বীকার করছি না। এটাতো রাজনীতি। রাজনীতি করতে গেলে তো অনেক কিছু অনেক সময়... আগে যখন আমরাও (রাজনীতি) করেছি তখন ইউনিভার্সিটিতে তো কত ধরনের ঘটনা হয়েছে। ঘটনার পরে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না সেটি হচ্ছে আমাদের কথা, আমরা ব্যবস্থা নিতে পারছি কিনা।
গোপালগঞ্জে মৃত্যুর ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি জানিয়ে একজন সাংবাদিক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে উপদেষ্টা বলেন, পুলিশ মামলা করবে কি করবে না, একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে তারা বলবে।
গোপালগঞ্জের ঘটনায় ৯ জন শিশুকেও আটকে রাখা হয়েছে বলে তথ্য দেন একজন সাংবাদিক। এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এরকম কোনো খবর আমার কাছে নেই।
এরপর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানতে চান কোন গণমাধ্যমে এ ধরনের প্রতিবেদন হয়েছে। তখন তাকে পত্রিকার নাম জানানো হয়। গতকালকের ছাত্রলীগের হরতাল নিয়ে এক প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লীগের তরফ থেকে একটি হরতাল ডাকা হয়েছে, হরতাল কি হয়েছে কিনা সেটা বলেন? দুইটি গাড়িই পোড়ানো হয়েছে সত্যি কথা। নাশকতাটা হয়েছে। অন্যান্য হরতাল কল (আহ্বান) করার সময় এই নাশকতাটা আরও বেশি হয়েছে। তার থেকে আমরা (নাশকতার পরিমাণ) অনেকটা কমিয়ে আনতে পেরেছি কিনা, সেটি আপনারা দেখবেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগামী ফেব্রয়ারী বা এপ্রিলে জাতীয় নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পারবেন কিনা, সেই প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না কেন? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেই প্রস্তুতি, আরও তো অনেক সময় রয়ে গেছে। আমাদের প্রস্তুতি রয়ে গেছে, আমাদের ট্রেনিং হচ্ছে, আমরা ট্রেনিং করিয়ে দিচ্ছি। আমরা তো প্রস্তুতি নিয়ে নিচ্ছি। আল্লাহ দিলে (নির্বাচন) করতে কোনো অসুবিধা হবে না।