‘সোহাগদল’ বাংলাদেশের মানচিত্রে এমন একটি ইউনিয়ন, যা হাতে গোনা। মাত্র একটি গ্রাম নিয়ে পুরো একটি ইউনিয়ন গঠিত হয়েছে। এই ইউনিয়নটি বরিশাল বিভাগের স্বরূপকাঠি থানার অন্তর্গত। পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত এক ছোট্ট, শান্তিপূর্ণ জনপদের নাম ভাইজোড়া। এখানে নানাবাড়ির অনেক স্মৃতি, ভালোবাসা, মায়া-মমতা আর আবেগ জড়িত। যেখানে কেটেছে শৈশব থেকে জীবনের অর্ধেক সময়। মামাবাড়ির এলাকায় আমার অসংখ্য বন্ধু রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ বিএনপির সমর্থক, কেউ নিরপেক্ষ, কেউ জাতীয় পার্টি, কেউ আওয়ামী লীগ কর্মী আর ওয়ালিদ এক ইসলামি দলের সমর্থক। মামাবাড়ি বেড়াতে গেলে এখনো আমরা একসঙ্গে আড্ডা দিই, সুখ-দুঃখের গল্প করি। রাজনীতি নিয়ে চলে দীর্ঘ যুক্তিতর্ক। কেউ কারও মতাদর্শকে প্রতিহত করে না। বরং মন দিয়ে শোনে, বোঝে, দ্বিমত পোষণ করে। তবুও সম্পর্কের ফাটল ধরে না। গ্রামবাংলায় একটি জনপ্রিয় কথা প্রচলিত আছে ‘ওরাই সরকার, ওরাই বিরোধী দল।’ সাধারণত এই কথাটি বলা হয় সেইসব পরিবারকে, যেখানে একই ছাদের নিচে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করেন। রাজনৈতিক সংস্কৃতির যে দমন-পীড়নের প্রবণতা আমরা শহরে দেখি, তা গ্রামীণ সমাজে চোখে পড়ে না। তবে দমন-পীড়নকারী সমাজ থেকে বিচ্যুত হয়। যেমনটি হয়েছিল চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে।
অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ ও নির্বাচন গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ এই সত্যটি সংসদীয় গণতন্ত্রের মৌলিক দর্শন। গণতন্ত্র মানে জনগণের শাসন। তখনই এটি অর্থবহ হয়, যখন সব শ্রেণি-পেশার জনগণ, নারী-পুরুষ, জাতিগোষ্ঠী ও রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ নির্বিশেষে মতপ্রকাশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে। অংশগ্রহণহীন গণতন্ত্র একটি ফাঁকা কাঠামো। সেখানে জনগণের সম্মতি, দায়বদ্ধতা এবং ন্যায়বিচার অনুপস্থিত। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হয় না, ফলে সরকার বৈধতা হারায়। অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ মানে, রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ ও ক্ষমতা কাঠামোতে সবাইকে জায়গা দেওয়া, যাতে বৈচিত্র্য, ভারসাম্য এবং মানবিক ন্যায্যতা নিশ্চিত হয়। গবেষণায় দেখা যায়, যে দেশগুলোতে অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ আছে, সেখানে উন্নয়ন টেকসই হয়, সংঘাত কমে এবং জনগণ নিজেদের রাষ্ট্রের অংশীদার বলে মনে করে। পক্ষান্তরে, যেখানে নির্বাচন নিয়ন্ত্রিত হয়, বিরোধীদের দমন করা হয়, অথবা কিছু গোষ্ঠীকে ব্যবস্থার বাইরে রাখা হয়, সেখানে গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হয়, আর রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে অস্থিরতায় পড়ে। তাই প্রকৃত গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন সব মানুষের সম্মানজনক ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে, বিশেষত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলোতে বিরোধী দলগুলোর বর্জন, ভোটাধিকার হরণ এবং রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের পক্ষপাতিত্ব, জনআকাক্সক্ষার সঠিক প্রতিফলনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এতে শুধু গণতন্ত্র দুর্বলই হয়নি, জনগণের রাজনৈতিক আস্থা ও সম্পৃক্ততাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে কারণে বাংলাদেশের জনগণের প্রধান দাবি ছিল একটি, অন্তর্বর্তীকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সর্বদলীয় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন যা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও আস্থাশীল হবে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ক্ষমতাভার গ্রহণ করে। কিন্তু গত ১১ মাসেও তার সরকার একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে পারেনি। এর নেপথ্যে কিছু রয়েছে কি না, জানা নেই। ২০২৫ সালের ৪ জুন ঢাকায় ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইস বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও গণতন্ত্র বিষয়ে জাতিসংঘের অবস্থান সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের কাছে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের মানে হলো, প্রত্যেক বাংলাদেশি যেন মতামত প্রকাশ ও ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। নারী, তরুণ, নৃতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সবাই যেন ভয়ভীতিমুক্তভাবে অংশ নিতে পারেন।’
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন স্থগিত করার প্রস্তাব নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ না করার সুপারিশ করা হয়েছে। কারণ, সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত থাকলে সমাজে মেরূকরণ কমে এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানো যায়।’ এর আগে, ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানান, কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ গণতন্ত্র পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। দল নিষিদ্ধ হলে দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠী কার্যত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে, যা সরাসরি গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী। জাতিসংঘের এই অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরে যে, গণতন্ত্র কেবল নির্বাচন আয়োজন নয় এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবিক এবং জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়া। যেখানে ভয়মুক্ত মতপ্রকাশ, রাজনৈতিক সমাধিকার এবং অংশগ্রহণই ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ১৯৭৩ সালে প্রণীত এই আইনের ভিত্তিতে যুদ্ধপরবর্তী সময়ের অপরাধ বিচার করার লক্ষ্য ছিল। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নতুনভাবে সক্রিয় হয়। ঢাকার কেন্দ্রে প্রথমে যমুনা তারপর শাহবাগে এনসিপির নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অংশের উদ্যোগে এবং জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামপন্থি দলগুলোর দৃঢ় সমর্থনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণের অনুষ্ঠিত বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে, সরকার ২০২৫ সালের ১০ মে, শনিবার ঘোষণা করে যে উপদেষ্টা পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। এরপর, ১১ মে, রবিবার অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করে, যেখানে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয়। ১২ মে, সোমবার সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি সংশোধনী আনে, যা ‘দলের সব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ’ অর্থকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে। সংশোধনী অনুযায়ী, তখন থেকে আওয়ামী লীগের পক্ষে বা সমর্থনে কোনো প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানো, মিছিল, সভা, সংবাদ সম্মেলন আয়োজন বা জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সরকারের যুক্তি অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ পুনরায় সংগঠিত হলে বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, দলটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকাকালে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল করা হয়েছে, বিচার বিভাগ প্রভাবিত হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করে বিরোধীদের দমন করা হয়েছে। ফলে দলটি সক্রিয় থাকলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে পক্ষপাত ও হস্তক্ষেপের ঝুঁকি থাকে।
আন্তর্জাতিক নজির বিবেচনায় দেখা যায়, নাৎসি পার্টি ও যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত অন্যান্য দলের বিরুদ্ধে বিশে^র অনেক দেশেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও বিচার প্রক্রিয়ার সুষ্ঠুতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এমন পদক্ষেপকে সমর্থন করে, যা অপরাধী রাজনৈতিক শক্তিকে সাময়িকভাবে কার্যক্রম থেকে বিরত রাখে। তবে, এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কও রয়েছে। সংবিধানের ৩৭, ৩৮ এবং ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশের নাগরিকদের সমাবেশ, সংগঠন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংরক্ষিত। কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত না করে কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ করা ‘নির্দোষ ধারণার নীতি’র পরিপন্থী। আন্তর্জাতিক আইনও এই নীতিকে সমর্থন করে। সরকার বলছে, এই সিদ্ধান্ত সাময়িক এবং শুধু বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রযোজ্য। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর রাখতে হলে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে যে এটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, সব পক্ষকে সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনের মূলনীতি মেনে চলার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে স্থিতিশীল ও গ্রহণযোগ্য রাখার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
বড় একটি দল নিষিদ্ধ করা মানে কোটি কোটি সমর্থকের রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করা। এতে ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মতপ্রকাশ সংকুচিত হয় এবং বিরোধী রাজনীতির পরিবেশ ধ্বংস হয়। ফলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা এবং বিভাজন বাড়ার আশঙ্কা থাকে। ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমান সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করেন। সেই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, গণতন্ত্রের অবসান কীভাবে রাষ্ট্রকে অস্থির করে তোলে। পরে জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। এরপরেও জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করার ঘটনা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল যদি রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করে বা সহিংসতা ছড়ায়, তবে আদালতের মাধ্যমে তা নিষিদ্ধ করা যেতে পারে। তবে এ সিদ্ধান্ত হতে হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও যুক্তিসংগত। ক্ষমতার স্বার্থে বা প্রতিহিংসা থেকে নয় বরং প্রকৃত অপরাধ ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হতে হবে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো যেমন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণে বরাবরই সতর্ক। তাদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করে ও গণতন্ত্রকে দুর্বল করে। বরং আইনের যথাযথ প্রয়োগ, জবাবদিহি এবং স্বচ্ছ তদন্তই হতে পারে রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার দীর্ঘমেয়াদি কৌশল।
বিশিষ্ট আইনবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণতন্ত্রে সব দলের জন্য সমান সুযোগ থাকা উচিত। দল নিষিদ্ধ না করে বরং তাদের কার্যক্রম আইন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করা, অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাই অধিক কার্যকর ও গণতান্ত্রিক পথ। সচেতন নাগরিকরাই চরমপন্থি বা কর্তৃত্ববাদী দলগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে। তাই গণতন্ত্র রক্ষায় মতপ্রকাশ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, নাগরিক সমাজের সক্রিয়তা ও রাজনৈতিক শিক্ষাই অধিক ফলপ্রসূ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখা গেছে, যেখানে অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে, সেখানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং শান্তি টেকসই হয়েছে। এটি ছাড়া গণতন্ত্রের অস্তিত্বই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ৩১ দফা রূপরেখা এবং ভিশন-২০৩০ এ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ ও নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিকব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যা ইতিবাচক রাজনৈতিক রূপান্তরের বার্তা বহন করে।
লেখক: গবেষক ও রাজনৈতিক কলাম লেখক
sk.rafiq1982@gmail.com