প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মোস্তাফিজুর রহমানের কাটারে ছিন্নভিন্ন পাকিস্তান। চার ওভারে মাত্র ছয় রান দিয়ে দুটি উইকেট—এই দুর্দান্ত স্পেলেই কাবু সালমান আলি আগার দল। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার বাসিত আলী তাই বিস্মিত নন মোস্তাফিজের পারফরম্যান্সে, বরং হতাশ নিজের দেশের ব্যাটারদের ব্যর্থতায়।
মিরপুরের মন্থর উইকেটে মোস্তাফিজ শুরু থেকেই ছিলেন বিধ্বংসী। নিচু হয়ে যাওয়া কাটারে একে একে পরাস্ত করেছেন হাসান নাওয়াজ ও খুশদিল শাহকে। চার ওভারের প্রতিটি বলেই যেন ছিল ফাঁদ, আর পাকিস্তানের ব্যাটাররা ছিলেন দিশেহারা।
বাসিত আলী বলেন, ‘মোস্তাফিজ চার ওভারে ছয় রান দিয়ে দুই উইকেট নিয়েছে। দলের কেউ জানেই না তাকে কীভাবে খেলতে হয়। আপনার দলে আট ব্যাটার, কিন্তু সবার ব্যাটিং স্টাইল এক! এমন হলে চলবে কী করে?’
মাত্র ১১০ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। অথচ বাংলাদেশ জয়ের কাজটা সেরে ফেলে অনায়াসেই। ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন খেলেন ৩৯ বলে ৫৬ রানের টপ ক্লাস ইনিংস, সঙ্গে তাওহীদ হৃদয় ৩৭ বলে করেন ৩৬ রান। বাংলাদেশ ম্যাচ জেতে ৭ উইকেটে।
এই দুই ব্যাটারের প্রশংসা করে বাসিত আরও বলেন, ‘পারভেজ ইমন ৫৬ করেছে, টপ ক্লাস। হৃদয় করেছে ৩৬, টপ ক্লাস। আমাদেরও শিখতে হবে ওদের মতো পিচ পড়ে খেলতে। আমাদের ব্যাটাররা ভাবে, গিল, জয়সাওয়াল, হেড, সূর্যর মতো একের পর এক ছক্কা হাঁকাবে। আগে অন্তত পিচটা তো দেখো! এটা কি ছক্কা মারার পিচ?’
সরাসরি সমালোচনার তীরে বিদ্ধ করেছেন পাকিস্তানের নতুন প্রধান কোচ মাইক হেসনকেও। বাসিত আলীর ভাষায়, ‘মনে হয় যেন খেলা হচ্ছে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে! পাকিস্তানের কোচ যেই আসে, সে সাহায্যকারী না হয়ে ‘প্রফেসর’ হয়ে যায়! মনে করে, শুধু সে-ই ঠিক, বাকি সবাই ভুল। দলের কারোরই কোনো পিচ রিডিং নেই।’
বাংলাদেশ সফরের শুরুটা টেস্টে হোয়াইটওয়াশ দিয়ে হয়েছে পাকিস্তানের। এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজেও পিছিয়ে পড়েছে তারা। আর সেই ব্যর্থতার দায় গিয়ে পড়েছে ব্যাটিং পরিকল্পনা ও টিম ম্যানেজমেন্টের ঘাড়ে।
মোস্তাফিজের কাটার সামনে দাঁড়ানোর উপায় খুঁজে না পেলে সিরিজেও যে ধাক্কা খেতে হবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।