খুলনা

শেখ হাসিনার ২ চাচাতো ভাইসহ ৭৩ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ৩

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২ চাচাতো ভাই খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সোহেলসহ মোট ৭৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ক্ষতিসাধন ও অন্য জেলার সঙ্গে খুলনার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য টায়ারে আগুন লাগিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা হয়।

গত রবিবার খুলনা সদর থানায় এসআই মো. আমজাদ হোসেন ও সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় এসআই মো. জিয়াউদ্দিন শিকদার বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন। এই অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রবিবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে তাদের নগরীর কলেজিয়েট স্কুলের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন- নিরালা ছবেদা তলা মোড়ের বাসিন্দা মো. আব্দুল রহিম গাজীর ছেলে ইব্রাহীম গাজী এবং টুটপাড়া আমান মহল্লার বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদের ছেলে ডিনার হোসেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হাসানুর রহমান বলেন, রবিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জানতে পারি কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের সামনে এ মামলার আসামিরা অর্ন্তবর্তী সরকারকে উৎখাতসহ নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতি এবং শহরের সঙ্গে অন্য জেলার সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য অবস্থান করছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পিকআপ দেখতে পেয়ে উপস্থিত নেতারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। পুলিশ গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের কাছ থেকে এ সময় একটি টায়ার এবং বোতল থেকে কিছু পেট্রোল উদ্ধার করে। তারা পুলিশের কাছে স্বীকার করে মামলার ৩, ৪ এবং ৫নং আসামির নির্দেশে খানজাহান আলী সড়ক খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে অগ্নিসংযোগের জন্য অবস্থান করছিলেন।

রূপসা ফাঁড়ির ইনচার্জ আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে বিকেলে খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল, তার ছোট ভাই শেখ সোহেল, অ্যাডভোকেট শেখ সাইফুল ইসলাম এবং ২৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জেড এ মাহমুদ ডনসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৪৫/৫৫ জন নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তাদের দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। 

অন্যদিকে একই অভিযোগে সোনাডাঙ্গা থানায় এসআই মো. জিয়াউদ্দিন শিকদার বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করে। রবিবার দায়েরকৃত মামলায় মিরাজ মাঝি (৪২) নামের একজনকে গ্রেপ্তার হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন, কেসিসির ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের পতিত কাউন্সিলর এসএম রাজুল হাসান রাজু ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের পতিত কাউন্সিলর আলী আকবর টিপু, সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ্বাস, আওয়ামী লীগ নেতা ইউসুফ আলী খান, কামাল হোসেন (পিতা-ইসমাইল হোসেন), কামাল হোসেন (পিতা-মৃত জলিল মিয়া), নিতাই কুমার সরদার, হাসান, মুজিবর রহমান, লিটন ও ইমরানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০/৫০ জন।

এ প্রসঙ্গে সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া মিরাজ মাঝিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।