চাঁদপুরে স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় স্বামী গ্রেপ্তার

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে স্ত্রী রূপালী খুনের ঘটনায় স্বামী জামাল গাজীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (২০ জুলাই) দুপুরে কুষ্টিয়া থেকে পলাতক জামালকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

পাওনা টাকা ও পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী রূপালীকে খুন করে বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে পালিয়ে যায় স্বামী জামাল গাজী।

সোমবার (২১ জুলাই) পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিব। 

গত ১১ জুলাই মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাধি ইউনিয়নে রূপালী বাবার বাড়িতে খুন হয়। পরে বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
হত্যার শিকার ফাতেমা বেগম রূপালী মতলব দক্ষিণ উপজেলার দক্ষিণ ঘোড়াধারি গ্রামের বাসিন্দা । পাটওয়ারী বাড়ির কালু পাটওয়ারীর মেয়ে। তার স্বামী অভিযুক্ত জামাল পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানার পানপট্টি গেড়ামধন গ্রামের বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিব জানান, টিকটকের মাধ্যমে রূপালী ও জামাল গাজীর সাথে ২০২৪ সালে পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর কয়েক মাস সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তীতে তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এক সময় জামাল গাজী স্ত্রীর স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জে চলে যায়। রুপালি ও তার আত্মীয়-স্বজন তাকে পুনরায় বাড়িতে নিয়ে আসলে স্বর্ণালঙ্কার ফেরত দেয় সে। নগদ ৩৬ হাজার টাকা ফেরত না দেওয়ার দ্বন্দ্বে পরিকল্পিতভাবে জামাল গাজী খুন করে স্ত্রী রূপালীকে। পরে তাকে বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে পালিয়ে যায়। রূপালীর এর আগে আরও ৪টি বিয়ে হয়েছিল ও জামাল আরও দুটি বিয়ে করেছিল। হত্যার ঘটনায় ফাতেমার আগের ঘরের ছেলে টিপু পাটোয়ারী বাদী হয়ে মতলব দক্ষিণ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘মামলা হওয়ার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. লুৎফুর রহমানের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ দল গঠিত হয়। পুলিশ জামাল গাজীকে নারায়নগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, পটুয়াখালী, ঝিনাইদহ জেলা অনুসরণ করে একাধিক গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করে। সর্বশেষ কুষ্টিয়া জেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার বৃত্তিপাড়া বাজার এলাকা থেকে রবিবার দুপুরে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি তার স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাকে সোমবার দুপুরে চাঁদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।’