জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সহকারী চ্যাটজিপিটির জন্য মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগলের ক্লাউড অবকাঠামো ব্যবহার করবে চ্যাটবটটির নির্মাতা ওপেনএআই। এআইয়ের জন্য বাড়তি কম্পিউটিং চাহিদা মেটাতে ওপেনএআই তাদের সরবরাহকারীদের তালিকায় এবার গুগলকেও যোগ করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।
বুধবারের এক ঘোষণায় ওপেনএআই বলেছে, এখন মাইক্রোসফট, কোরউইভ এবং ওরাকলের পাশাপাশি ‘গুগল ক্লাউড প্লাটফর্ম’ও ব্যবহার করবে চ্যাটজিপিটি ও এর ‘অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেইস’ বা এপিআই। সিএনবিসি লিখেছে, ক্লাউড ব্যবহারের জন্য ওপেনএআই মূলত মার্কিন সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফটের ওপর নির্ভরশীল। তবে বর্তমানে চ্যাটজিপিটির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় আরও শক্তিশালী কম্পিউটিং সক্ষমতার জন্য গুগলের ক্লাউড ব্যবহারের দিকে ঝুঁকচ্ছে ওপেনএআই।
শুরুতে একসঙ্গে কাজ করলেও বর্তমানে ওপেনএআই ও মাইক্রোসফটের সম্পর্ক অনেকটা বদলেছে। গত বছর ওপেনএআইকে নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী বলে ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সফটওয়্যার জায়ান্টটি। ডেভেলপারদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন টুল বিক্রি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য সাবস্ক্রিপশন সেবা দিয়ে থাকে ওপেনএআই ও মাইক্রোসফট উভয় কোম্পানিই।
এদিকে, ওপেনএআইয়ের এ ঘোষণা গুগলের জন্য বড় অর্জন বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের চেয়ে তুলনামূলক নতুন ও ছোট গুগলের ক্লাউড বিভাগ। এ ছাড়া, ‘অ্যানথ্রপিক’ নামের আরেকটি এআইনির্ভর কোম্পানিও ব্যবহার করছে গুগলের ক্লাউড সেবা, যেটি প্রতিষ্ঠা করেছে ওপেনএআইয়েরই সাবেক কর্মীরা। গুগলের এ ক্লাউড অবকাঠামো যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও যুক্তরাজ্যে চালু থাকবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে সিএনবিসি। গত বছর মার্কিন কম্পিউটার প্রযুক্তি কোম্পানি ওরাকল ঘোষণা করেছিল, ‘মাইক্রোসফট অ্যাজিউর এআই প্ল্যাটফর্মকে ওরাকল ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচারে বিস্তৃত করতে’ ওপেনএআই ও মাইক্রোসফটের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করছে তারা। যাতে ওপেনএআইকে অতিরিক্ত কম্পিউটিং শক্তি দেওয়া যায়।
এ বছরের মার্চে ‘কোরউইভ’ নামের আরেকটি ক্লাউড কোম্পানির সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি করেছে ওপেনএআই, যার মূল্য প্রায় এক হাজার দুইশো কোটি ডলার। এর আগে, জানুয়ারিতে মাইক্রোসফট বলেছিল, আগের মতো ওপেনএআইয়ের একমাত্র ক্লাউড পরিষেরা সরবরাহকারী হবে না তারা। বরং কোম্পানিটি যখন বেশি কম্পিউটিং শক্তি চাইবে তখন মাইক্রোসফটের কাছে নিজেদের পছন্দ বাছাইয়ের অধিকার থাকবে। তবে ওপেনএআইয়ের প্রোগ্রামিং ইন্টারফেইস বা সফটওয়্যারের বিশেষ অংশ এখনো একচেটিয়াভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে মাইক্রোসফট।
এপ্রিলে ওপেনএআইয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও স্যাম অল্টম্যান বলেছিলেন, ওপেনএআই যেসব লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল চালায় সেগুলোর জন্য মার্কিন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া’র গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করে তারা। তবে এখন কম্পিউটিং সক্ষমতা বা সার্ভার জায়গা না থাকায় সমস্যায় পড়ছে কোম্পানিটি। এর আগে জুনে রয়টার্স প্রতিবেদনে লিখেছিল, গুগল থেকে ক্লাউড সক্ষমতা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ওপেনএআই।