ফরিদপুরে মোটর ওয়ার্কাস ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হামলা, বাস চলাচল বন্ধ

ফরিদপুর মোটর ওয়ার্কাস ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুইদল শ্রমিকের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১০-১৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছে। হামলার ঘটনার পর ফরিদপুরের সাথে সকল রুটের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে বাস স্ট্যান্ড এলাকাজুড়ে আতংকাবস্থা বিরাজ করছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় শ্রমিকেরা, ফরিদপুর মোটর ওয়ার্কাস ইউনিয়নের (১০৫৫) নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে বর্তমান কমিটি। এর বিরোধীতা করে শ্রমিকদের একটি অংশ। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নির্বাচনের বিরোধীতা করে বিক্ষুব্দ শ্রমিকেরা নতুন বাস স্ট্যান্ড এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়। মানববন্ধন শুরু হওয়া মাত্রই ৩০-৪০ জনের একটি দল লাঠিসোঁঠা নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় বেশ কয়েকজন শ্রমিককে পিটিয়ে আহত করা হয়।

পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ ঘটনার পর পরই বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বেলা ১২টার দিকে ফরিদপুরের সকল রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ সময় তারা বাস স্ট্যান্ড এলাকা দখল নিয়ে হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে মিছিল করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা মোটর ওয়ার্কাস ইউনিয়নের অফিস তালা মেরে দেয়। বর্তমানে দুইদল শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নবগঠিত কমিটির ইয়াছিন মোল্লা বলেন, কতিপয় আওয়ামীলীগের দোসরেরা গত কয়েকদিন যাবত বাসস্ট্যান্ড দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছিল। আওয়ামীলীগের শ্রমিক নেতা নাজমুল হোসেন তারা মোল্লার নেতৃত্বে কিছু সন্ত্রাসী বাস স্ট্যান্ড দখল করতে আসলে সাধারণ শ্রমিকেরা তাদের প্রতিহত করে।

অপরপক্ষের নেতা নাজমুল হোসেন তারা অভিযোগ করে বলেন, মোটর ওয়াকার্স ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ ভোটার তালিকা থেকে বেশকিছু ভোটারদের বাদ দেয়। বিগত দিনে যারা আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে সম্পর্ক রেখে চলছিল তারা এখন বিএনপি সেজে সাধারণ শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করছেন। এরই প্রতিবাদে আমরা যখন মানববন্ধন করতে যাই, তখনই ইয়াছিন মোল্লার নেতৃত্বে লাঠিসোঠা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে আমাদের ১০-১৫ জন শ্রমিক আহত হয়।

কোতয়ালী থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামান জানান, মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শ্রমিকেরা দুইভাগে ভাগ হয়ে পড়ে। একটি গ্রুপ নির্বাচন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন শুরু করলে আরেকটি গ্রুপ তাদের উপর হামলা করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাস চলাচল সাময়িক বন্ধ রয়েছে। আর কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।