রাজধানীর উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় মাইলস্টোন স্কুলের হতাহত শিক্ষার্থীদের সঠিক তথ্য প্রকাশ এবং গভীর রাতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে বরিশালে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও ও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুর ১২টা থেকে নগরীর নথুল্লাবাদ সংলগ্ন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। তারা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং দূর-দূরান্তের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা কিছু সময়ের জন্য সড়ক ছেড়ে দিলেও পরে পুনরায় অবরোধে ফিরে আসেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত তারা সড়কে অবস্থান করছিলেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার বলেন, ‘শিক্ষা উপদেষ্টা কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেননি। রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করার পরও তিনি চুপ করে ছিলেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে দেখেছি, নিহতের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়েছে। অথচ সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে মাত্র ২০ জনের মৃত্যু। আমরা মনে করি, প্রকৃত লাশের সংখ্যা গোপন বা গুম করা হচ্ছে। আমাদের দাবি, নির্ভুল লাশের সংখ্যা প্রকাশ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রশিক্ষণের নামে পুরাতন যুদ্ধবিমান দিয়ে কেন জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলা হবে? এসব বিমান বাতিল করতে হবে। গতকালের মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত ও আহত পরিবারের দায়ভার বিমানবাহিনীকে নিতে হবে। সেনাবাহিনী কেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর লাঠিচার্জ করল? এই প্রশ্নের জবাব চাই। জনসম্মুখে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাইতে হবে।’
শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন বলেন, ‘সরকারের আচরণ এখন ফ্যাসিস্টের মতো। কিছু বললেই পুলিশ-আর্মি পাঠানো হয়। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই-হাসিনা দানব শিক্ষার্থীদের দমন করতে পারবে না। আমাদের ভোটেই তিনি বসেছেন। আমাদের ভুল বোঝানোর চেষ্টা করবেন না। আমরা কারো রক্তচক্ষুকে ভয় পাই না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাড়ে ৩টার দিকে আমরা সড়ক ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু ঢাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার খবরে আমরা আবার রাস্তায় নেমেছি। শিক্ষা উপদেষ্টাকে অপসারণ করতে হবে। নিহতদের নির্ভুল তালিকা দিতে হবে। শিক্ষকদের গায়ে হাত দেওয়া সেনা সদস্যদের ক্ষমা চাইতে হবে। নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পুরোনো যুদ্ধবিমান বাতিল করতে হবে। সব দাবি মানা না হলে সড়ক ছাড়বো না।’
এর আগে দুপুরে মাইলস্টোন স্কুলের নিহত শিক্ষার্থীদের গায়েবানা জানাজা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরাও গভীর রাতে পরীক্ষার স্থগিত সংক্রান্ত নোটিশ পেয়েছি। সঙ্গে সঙ্গেই কলেজগুলোতে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির সিকদার বলেন, ‘জনভোগান্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করেছি যাতে তারা সড়ক ছেড়ে দেয়। পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কাজ করছে।’