জামায়াতে ইসলামীর দাওয়াত ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে বললেন গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘জনগণ আজ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। বিগত ১৬-১৭ বছরের দুঃশাসন, দমন–পীড়ন ও অনিয়ম দেখে মানুষ আর সেই পথে ফিরতে চায় না। মানুষ এমন একটি দেশ চায়, যেটি পরিচালিত হবে ন্যায়ের ভিত্তিতে, যেখানে শাসক হবেন জনগণের সেবক—শোষক নয়।’

গতকাল বুধবার বিকেলে খুলনার শিরোমণি হাফিজিয়া মাদরাসা অডিটোরিয়ামে খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) আসনের কেন্দ্রভিত্তিক ভোট পরিচালনা–সম্পর্কিত এক প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সভায় উপস্থিত ছিলেন আসনের কেন্দ্র, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের পরিচালক ও সদস্য সচিবরা।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়তে চায়, যেখানে থাকবে না অন্যায়, অত্যাচার, দুর্নীতি ও দুঃশাসন। পরস্পরের মধ্যে থাকবে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধ। রাষ্ট্রের মালিকানা থাকবে জনগণের হাতে, শাসক হবেন সেবক—শোষক নয়। শাসকের কাজ হবে জনসেবা, লুটপাট নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য জামায়াতে ইসলামীর দাওয়াত ঘরে ঘরে পৌঁছে দিন। আগামী নির্বাচনে ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’তে ভোট দিয়ে তরুণ প্রজন্মের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে এগিয়ে আসুন।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন নির্বাচনী আসন কমিটির আহ্বায়ক মুন্সি মিজানুর রহমান এবং সভা পরিচালনা করেন সদস্য সচিব অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, কর্ম পরিষদ ও শূরা সদস্য মাস্টার শেখ সিরাজুল ইসলাম, জেলা অফিস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম, বায়তুলমাল সেক্রেটারি হাফেজ আমিনুল ইসলাম, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্যা, জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি ইউসুফ ফকির, ফুলতলা উপজেলা আমির অধ্যাপক আব্দুল আলীম মোল্যা, খানজাহান আলী থানা আমির ডা. সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটো, ডুমুরিয়া উপজেলা আমির মাওলানা মোক্তার হোসেন, ফুলতলা উপজেলা সেক্রেটারি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা সাইফুল হাসান খান, খানজাহান আলী থানা সেক্রেটারি গাজী মোর্শেদ মামুন, ডুমুরিয়া উপজেলা সেক্রেটারি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, জামায়াত নেতা শেখ মো. আলাউদ্দিন, ড. আজিজুল হক, মাস্টার মফিজুল ইসলাম, মো. শরিফুল ইসলাম, হাফেজ আল আমিন গাজী, মাস্টার মিজানুর রহমান এবং মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান।

সভায় জামায়াতের সাবেক মন্ত্রীর সময়ে দুর্নীতিমুক্ত মন্ত্রণালয় পরিচালনার উদাহরণ টেনে সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘আপনারা জানেন, জোট সরকারের আমলে জামায়াতের দুজন মন্ত্রী ছিলেন। আলহামদুলিল্লাহ, সেই দুটি মন্ত্রণালয়ে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ ছিল না। ফলে বলা যায়, বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন ও কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জামায়াতের বিকল্প নেই।’

এর আগে সকালবেলা অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ফুলতলা উপজেলার জামিরা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ, পথসভা এবং নারী সমাবেশে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন।