২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত এবং শতাধিক নেতাকর্মী আহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দুটি মামলায় হাইকোর্টে খালাস পাওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের ওপর শুনানির কথা রয়েছে আজ বৃহস্পতিবার।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চে আজ এই আপিল শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর আগে গত ১৭ জুলাই মামলার আপিলে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের বক্তব্য উপস্থাপন শুরু করে। শুনানির পর আদালত আজকের দিন ধার্য করেছিলেন।
ওইদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে পেপারবুক থেকে পাঠ করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মাসুদ। বিএনপির পক্ষে আইনজীবীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মো. মাকসুদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান রায়হান।
এ মামলার আপিল শুনানির জন্য ১৫ জুলাই আপিল বিভাগ ১৭ জুলাই তারিখ নির্ধারণ করে। এর আগে, ১২ জানুয়ারি উচ্চ আদালত একুশে আগস্ট হামলার ঘটনায় যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামিকে খালাস দেন।
রাষ্ট্রপক্ষ এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে ‘লিভ টু আপিল’ করে এবং শুনানির জন্য আদালতে আবেদন জমা দেয়। গত ১ জুন হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে করা লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। এর আগে ১৫ মে শুনানি শুরু হয়ে ২৮ মে পর্যন্ত চলে। লিভ মঞ্জুরের পর আদালত ১৭ জুলাই শুনানির দিন নির্ধারণ করে রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এই মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া দণ্ড বাতিল করে হাইকোর্ট গত বছরের ১ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করেন। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান (বর্তমানে আপিল বিভাগের বিচারপতি) এবং বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ওই রায় দেন। এতে তারেক রহমান, বাবরসহ সকল আসামি খালাস পান।
হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় ১৯ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করে এবং আবেদন দুটি গত ১৩ মার্চ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে ওঠে। সেদিন চেম্বার আদালত তা নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়মিত বেঞ্চের কার্যতালিকায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে শেখ হাসিনার সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত হন এবং আহত হন আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মী। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলায় বিচারিক আদালত ২০১৮ সালের অক্টোবরে রায় ঘোষণা করলেও হাইকোর্টে আপিলের মাধ্যমে আসামিরা খালাস পান। এখন সেই খালাসের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে চলছে চূড়ান্ত শুনানি।