পাল্টা শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আলোচনা ২৯ জুলাই

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) দপ্তরের সঙ্গে আগামী ২৯ জুলাই আলোচনা করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে এই আলোচনা অনলাইন বা ফিজিক্যালি যেকোনোভাবে হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।

বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায় বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান। এর আগে অবশ্য বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ইউএসটিআর’র সঙ্গে শুক্রবার অনলাইনে একটি বৈঠক হতে পারে। 

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর বলেন, ‘শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) দপ্তরের সঙ্গে সভা শুক্রবার নয় আগামী ২৯ জুলাই হবে। সভাটি অনলাইন কিংবা ফিজিক্যালি যেকোনোভাবে হতে পারে। এমনটি ইউএসটিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শুক্রবারের মিটিংয়ের বিষয়ে তারা কিছু জানায়নি।’ 

৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক নিয়ে তৃতীয় দফার আলোচনার জন্য বারবার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে মিটিংয়ের সময় চেয়ে অপেক্ষা করছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বেশ কিছু সভা-সেমিনারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে কোন কোন বিষয়ে সুবিধা দেওয়া হবে তা ইতোমধ্যেই ইউএসটিআরকে জানানো হয়েছে। এদিকে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েও রেখেছে। 

শেখ বশিরউদ্দীন সাংবাদিকদের বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ নিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুন্ন করে কোনো কাজ হবে না। একই সঙ্গে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের একটি অনলাইন হতে পারে। তার ওপর ভিত্তি করে আমরা আমাদের পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করব। 

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমরা গত পরশুদিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রীকে করণীয় সম্পর্কে চিঠি দিয়েছি। এখন আমরা সেই চিঠির জবাবের ও আমন্ত্রণের অপেক্ষায় আছি। জবাব ও আমন্ত্রণ পেলে আমাদের যে টিম আছে আমরা সবাই সেখানে যাব।

তিনি বলেন, এটা আমাদের জন্য যেমন প্রয়োজন তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও প্রয়োজন। এ বিষয়ে আমাদের কর্মকাণ্ডের কোনো স্থবিরতা নেই। আমাদের কর্মকাণ্ড যথেষ্ট গতিশীলতা নিয়ে আগাচ্ছে। আমরা আমাদের অবস্থানগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরেছি। সক্ষমতার ভিত্তিতে আমাদের যা করণীয় সেটা তুলে ধরেছি। 

আপনাদের প্রত্যাশা কি জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, আমাদের প্রত্যাশার কথা আমি আগেও বলেছি। আমরা প্রত্যাশা করছি ভালো কোনো কিছু। ভালো কোনো কিছু করার ক্ষেত্রে যা করণীয় আমরা সেটাই করছি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে যে উনাদের কাছ থেকে ভালো কোনো কিছু আমরা পাব।

ব্যবসায়ীদের পক্ষে থেকে লবিস্ট নিয়োগের একটা আলোচনা আছে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা ব্যবসায়ীদের এখতিয়ার। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো লবিস্ট নিয়োগ করেনি। একটা জিনিস বুঝতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইমার্জেন্সির জন্য এ কাজটি করেছে। এখানে যে কাঠামোর ওপরে ঘটনাটা ঘটছে সে কাঠামোতে লবিস্টদের করার কিছু আছে কিনা তা আমি জানি না। এদিকে আমাদের বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তন আনতে হবে। এই পরিবর্তনগুলো বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কেউ বুঝতে পারবে না।

তিনি বলেন, এ পরিবর্তনে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের অনেক ধরনের আইনি প্রক্রিয়া আছে। সেই আইনি প্রক্রিয়াগুলো একজন লবিস্টের পক্ষে বোঝা সম্ভব না বলে আমার ধারণা। আমরা সরকারের প্রায় সকল মন্ত্রণালয় এক সাথে কাজ করছি। গত ১৫ দিন দিন-রাত কাজ হয়েছে। সব মিলিয়ে আমরা আমাদের অবস্থান তুলে ধরেছি, আমন্ত্রণ পেলে চলে যাব।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি খবর প্রচারিত হচ্ছে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুন্ন করে যুক্তরাষ্ট্রকে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য নেই। আপনার মতো আমিও একজন বাংলাদেশি। বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুন্ন করে কেন কাজ করব। সম্পূর্ণ অবান্তর প্রশ্ন, আমরা যে চেষ্টা করছি তাতে তো আন্তঃমন্ত্রণালয়ের মিটিংয়ের প্রয়োজন হয় না। কোনো একটা নির্দিষ্ট কিছু মেনে নিয়ে কাজ করে ফেললে হয়ে যায়। স্বার্থ ক্ষুন্ন করার প্রশ্ন আসলে পরিশ্রমের দরকার কেন।