চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সর্ব উত্তরের ইউনিয়ন পুকুরিয়া ইউনিয়নের রামপুর ডিসি সড়কের পুকুরিয়া বনাপুকুর পাড় থেকে চৌমুহনী পর্যন্ত ২কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩ কিলোমিটার কাজ শুরু হলেছিল ২৪ সালের ৮ ফেব্রয়ারি। কিন্তু দীর্ঘ সময়ে সড়ক সংস্কার কাজ শেষ না হওয়াতে চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।
জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের সংস্কার কাজের উদ্বোধনকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন প্রফেসর ড.সানাউল্লাহ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসান আলী, বাঁশখালী উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ, পুকুরিয়ার চেয়ারম্যান মো. আসহাব উদ্দিনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়ে সড়ক সংস্কার কাজ যথাসময়ে এবং কাজের মান ঠিক রেখে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও দায়িত্বরত রতদের আহ্বান জানালে ও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় হতাশ হয়েছে সাধারণ জনগণ।
সরেজমিন পরিদর্শন কালে দেখা যায়, পুকুরিয়া ইউনিয়নের রামপুর ডিসি সড়কের চাঁনপুর বাজার হয়ে সাতকানিয়ার কাঞ্চনাসহ অভ্যন্তরীণ এ সড়কে প্রতিদিন শত শত মানুষ ও গাড়ি চলাচল করে। কিন্তু পুকুরিয়া বনাপুকুর পাড় থেকে চৌমুহনী পর্যন্ত বেশ কিছু অংশ কাজে শেষ না হওয়ায় সেখানে বিশাল বিশাল গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে গর্তে পানি জমে দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ সিএনজি অটোরিকশাচালক আবুল কালাম, রহমান আলী, জসীমসহ বেশ কয়জন চালকের।
তাদের অভিযোগ- একদিকে কাজের দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ আর এ সড়কে অসংখ্য গতিরোধক দেওয়া হলেও কোনও চিহ্ন না দেওয়ায় গাড়ি চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। স্থানীয় জনগণ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উন্নয়ন কাজে রাজনীতি জড়িয়ে গেলে কাজের মান ভালো হয় না। এখন যেহেতু রাজনৈতিক সরকার নেই আমরা মনে করেছিলাম যথাসময়ে কাজ শেষ ও মান ঠিক থাকবে, কিন্ত কিছুই হলো না। যেখানে কাজ শেষ হয়নি তাতে পায়েও হাঁটা যায় না গর্তের কারণে। কাজটা দ্রুত শেষ করার জন্য তারা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অপরদিকে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা দক্ষিণ চট্টগ্রামের একমাত্র সুবিশাল চাঁনপুর বৈলগাঁও চা বাগানের সড়কটি ও ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে আছে। অথচ ৩ হাজার ৪ শত ৭২.৫৩ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত এই চা-বাগানটিতে ৭ শতাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা এবং চা পাতার বিক্রিত অর্থ থেকে সরকার ১৫% হারে ভ্যাট প্রদান করা হয়। তারপরে ও চা বাগানের একমাত্র সড়কটি ইট উঠে গিয়ে চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হয় দূর-দূরান্ত আগত পর্যটক ও চা বাগানের চা পাতা সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় কাজে প্রয়োজনীয় ভোগান্তি পোহাতে হয় বলে জানা যায়।
বাঁশখালীর চাঁনপুর বৈলগাঁও চা বাগানের ব্যবস্থাপক ও বাংলাদেশীয় চা সংসদীয় চট্রগ্রাম অঞ্চলের চেয়ারম্যান মো. আবুল বাশার বলেন, চলতি বছর এ বাগানেচা পাতা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪ লক্ষ কেজি। আশা রাখি সে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্ত সড়কে মালামাল পরিবহনসহ নানা ভোগান্তির কারণে সমস্যায় পড়তে হয় বলে তিনি জানান।
বাঁশখালী উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ বলেন, ২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে পুকুরিয়া বনাপুকুর পাড় থেকে চৌমুহনী পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার কাজের মধ্যে প্রায় ২ কিলোমিটার কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ নানা কারণে যথাসময়ে শেষ করতে না পারলেও বৃহস্পতি বার থেকে শুরু হয়েছে এবং কাজের মান ঠিক রেখে কাজটা শেষ করবে বলে জানান। চা বাগান সড়কটি সংস্কারে বাজেট পাঠানো হয়েছে। অনুমোন হলে কাজ শুরু হবে বলে সূত্রে জানা যায়।