থাইল্যান্ডের সঙ্গে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি চায় কম্বোডিয়া

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সীমান্তে তুমুল লড়াইয়ের মধ্যে থাইল্যান্ডের সঙ্গে ‘অবিলম্বে’ তাৎক্ষণিক ও শর্তহীন যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে কম্বোডিয়া। দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সংঘাতে এখন পর্যন্ত সেনা ও বেসামরিক মিলিয়ে ৩২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বাড়িঘর থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় দুই লাখ মানুষকে।

জাতিসংঘে কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রদূত চিয়া কে জানান, তাঁর দেশ শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। তবে থাইল্যান্ড এখনো এই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। এর আগে থাইল্যান্ড কম্বোডিয়া সীমান্তের আটটি জেলায় সামরিক আইন জারি করে।

থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই সতর্ক করে বলেন, সংঘর্ষ পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। তাঁর দাবি, এখন ভারী অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে এবং সংঘর্ষ ১২টি স্থানে ছড়িয়েছে।

থাইল্যান্ডের অভিযোগ, কম্বোডিয়া বেসামরিক এলাকায় হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, কম্বোডিয়া বলছে, থাই সেনারা ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ।

সংঘর্ষ বন্ধে আসিয়ানের সভাপতি ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রও উভয় পক্ষকে সংযম ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

থাইল্যান্ডের দাবি, কম্বোডিয়ার ড্রোন থাই সেনাদের ওপর নজরদারি শুরু করায় সংঘর্ষ হয়। কম্বোডিয়া বলছে, থাই সেনারা একটি প্রাচীন মন্দিরের কাছে অনুপ্রবেশ করায় সংঘর্ষ ছড়ায়।

ফরাসি উপনিবেশকাল থেকে এই সীমান্ত বিরোধ চলছে। গত মে মাসে এক কম্বোডিয়ান সেনা নিহত হওয়ায় উত্তেজনা বেড়েছে। এখন দুই দেশের সম্পর্ক এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায়।