গভীর নিম্নচাপে সাগর উত্তাল, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল সাগর। বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে উপকূলজুড়ে। থেমে থেমে বৃষ্টির পাশাপাশি বেড়েছে প্রায় সব নদ-নদীর পানি। জোয়ারের সময় স্বাভাবিকের তুলনায় পানির উচ্চতা বাড়ায় প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল, ঝুঁকিতে রয়েছে বেড়িবাঁধের কয়েকটি পয়েন্ট। এতে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেলে বরিশাল পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. তাজুল ইসলাম জানান, বিভাগের কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে বরিশালের কীর্তনখোলায় পানি বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ঝালকাঠির বিষখালীতে ১৬ সেন্টিমিটার, বরগুনার বেতাগীতে ৫২ সেন্টিমিটার, ভোলার দৌলতখানে ৮২ সেন্টিমিটার ও তজুমদ্দিনে ১৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি বয়ে যাচ্ছে।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ২৯ সেন্টিমিটার, আমতলীতে ১৮ সেন্টিমিটার, বরগুনার পাথরঘাটায় ৪৫ সেন্টিমিটার, পিরোজপুরের বলেশ্বরে ৩২ সেন্টিমিটার এবং কচা নদীর উমেদপুর পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে অনেক এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।

বরিশাল নগরীর সদর রোড, বটতলা, প্যারারা রোড, ধান গবেষণা রোড, বৈদ্যপাড়া, রূপাতলী হাউজিং ও ভাটিখানাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। অনেক বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় স্থানীয়রা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পলাশপুর, মোহাম্মদপুর ও রসুলপুরের বাসিন্দাদের অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। তাদের দৈনন্দিন কাজকর্মও ব্যাহত হচ্ছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ ছিল ১০ কিলোমিটার। এ অবস্থা আরও দুই-তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে, পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত এবং স্থানীয় নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ভোলা-ইলিশা রুটের লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকলেও ঢাকা-বরিশাল রুটে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে নদীবন্দর সূত্রে জানা গেছে।

পাউবো জানিয়েছে, বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও অস্বাভাবিক জোয়ার ও টানা বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। 

গতকাল দু’দফা জোয়ারের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ঢেউয়ের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সৈকতের ঝাউবাগান সংলগ্ন জাতীয় উদ্যান ও বেড়িবাঁধ থেকে সৈকতে প্রবেশের সড়কে নতুন করে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভের বেশকিছু স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন।

এছাড়াও রাত থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে নোয়াখালী হাতিয়ার নিম্নাঞ্চল। জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার নিচু এলাকায় বৃষ্টিতে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। এতে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে এলাকাবাসী।

এদিকে আজ শনিবার উপকূলীয় জেলাগুলোতে ১ থেকে ৩ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কার সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। সমুদ্রবন্দরগুলোতেও দেয়া হয়েছে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত।