চার দশকের বেশি সময় বন্দি থাকার পর ফ্রান্সের কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন ফিলিস্তিনপন্থি লেবানিজ যোদ্ধা জর্জ ইব্রাহিম আবদাল্লাহ। তিনি ১৯৮৪ সাল থেকে কারাবন্দি ছিলেন। মুক্তি পেয়ে বৈরুতে ফিরেছেন।
দুই কূটনীতিক হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪০ বছরের বেশি সময় তিনি ফরাসি কারাগারে বন্দি ছিলেন।
ফরাসি কর্তৃপক্ষ শুক্রবার ভোরে আর কোনোদিন ফ্রান্সে না অসার শর্তসাপেক্ষে আবদাল্লাহকে মুক্তি দেয়। বৈরুত বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে স্বাগত জানায়। পাশাপাশি আশপাশে বহু সমর্থক ভীড় করেছিলেন। এসময় তারা ফিলিস্তিন ও লেবাননের কমিউনিস্ট পার্টির পতাকা ওড়াচ্ছিলেন।
জর্জ আবদাল্লাহর আগমন উপলক্ষ্যে স্লোগান ও উল্লাসে ফেটে পড়েন সমর্থকরা। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, অনেকে তাকে ‘প্রতিরোধের প্রতীক’ হিসেবে বরণ করে নেন। রাজনৈতিক বন্দিদের মধ্যে ফ্রান্সে দীর্ঘতম সময় কারাবন্দি ছিলেন তিনি। তাই তার মুক্তি একটি যুগের অবসানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
১৯৮৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তা চার্লস রবার্ট রে ও ইসরায়েলি কূটনীতিক ইয়াকভ বারসিমান্তভকে প্যারিসে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে আবদাল্লাহকে দণ্ডিত করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মুক্তির যোগ্য ছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে তার মুক্তির আবেদন বারবার নাকচ করা হয়।
গত মাসে প্যারিসের আপিল আদালত শর্তসাপেক্ষে তার মুক্তির রায় দেয়—শর্ত ছিল, তিনি ফ্রান্স ছেড়ে যাবেন এবং আর কখনো ফিরে আসবেন না।
তার আইনজীবী জঁ-লুই শালাঁসে এএফপিকে বলেন, ‘শেষবার সাক্ষাতে তিনি খুব খুশি ছিলেন, যদিও তিনি জানেন, তিনি এমন একটি সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ফিরছেন, যখন লেবানন ও ফিলিস্তিনিদের অবস্থা অত্যন্ত কঠিন।’
বিলুপ্ত লেবানিজ রেভল্যুশনারি আর্মড ফ্যাকশনসের প্রতিষ্ঠাতা আবদাল্লাহ সম্প্রতি এক সংসদ সদস্যকে বলেন, তিনি এখনও ‘সংগ্রামী’ এবং সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন। তাকে গ্রেপ্তারের সময় তার একটি ফ্ল্যাট থেকে সাবমেশিনগান ও যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার করে ফরাসি পুলিশ।
আবদাল্লাহ কখনো তার কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। বরং বরাবরই তিনি নিজেকে একজন ‘সংগ্রামী’ হিসেবে তুলে ধরেছেন যিনি ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে লড়েছেন। তিনি মনে করেন, তিনি কোনো ‘অপরাধী’ নন।