কালিয়াকৈরে বেড়াতে গিয়ে নৌকা ডুবে নিহত ১

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঐতিহ্যবাহী মকস বিলে বেড়াতে গিয়ে নৌকা ডুবে রফিকুল ইসলাম (১৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। শুক্রবার (২৫ জুলাই) মকস বিলে বেড়ানোর সময় নৌকা ডুবে তিন বন্ধু নিখোঁজ হন। তারা চলতি বছর এসএসসি পাস করেছেন। নিখোঁজের একদিন পর শনিবার (২৬ জুলাই) সকালে তাদের মধ্যে রফিকুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করেছে ডুবুরী দল ও ফায়ার সার্ভিস। এখনো দুই বন্ধু নিখোঁজ রয়েছেন। 

নিহত রফিকুল ইসলাম ঢাকার সাভারের ধামরাই উপজেলার শিমুলিয়া এলাকার হালিম মিয়ার ছেলে।

এছাড়াও নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা হলেন- কালিয়াকৈর উপজেলার সুরিচালা এলাকার মজনু মিয়ার ছেলে শিমুল হোসেন ও একই এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান। 

নিহতের পরিবার ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সাভারের ধামরাই উপজেলার শিমুলিয়া থেকে গত শুক্রবার সকালে রফিকুল তার খালার বাড়ি কালিয়াকৈর উপজেলার সুরিচালা এলাকায় বেড়াতে আসেন। পরে বিকেলে তিনি ও তার খালাতো ভাই শিমুল, মেহেদী, সাকিব হোসেন ও আরাফাত হোসেনসহ পাঁচ বন্ধু মিলে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মকশ বিলে নিজেদের একটি ছোট নৌকা নিয়ে উপজেলার মকশ বিলে বেড়াতে বের হন। তারা সবাই চলতি বছর এসএসসি পাস করেছেন। কিন্তু ওই বিলে বেড়ানোর সময় প্রচণ্ড বাতাস বইতে থাকায় বিলের পানিতেও প্রচুর ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। এমন অবস্থায় তারা বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই বিলের বাঙ্গাল-জাঙ্গাল ও হাটুরিয়াচালা মাঝখানে পৌছলে তাদের নৌকাটি পানিতে উল্টে ডুবে যায়। এ সময় ওই ডুবে যাওয়া নৌকার পাশ দিয়ে আরেকটি বড় নৌকা গেলেও তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেনি। এক পর্যায় সাকিব হোসেন ও আরাফাত হোসেন নামে দুই বন্ধু সাঁতার কাটতে থাকলে তাদের উদ্ধার করে এলাকাবাসী। কিন্তু তাদের দুজনকে উদ্ধার করা গেলেও অপর তিন বন্ধু রফিকুল, শিমুল ও মেহেদী পানিতে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন ওই বিলের পানিতে তাদের খুঁজে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরী দল নিখোঁজের ১৭ ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাদের তিনজনের মধ্যে রফিকুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন তাদের অপর দুই বন্ধু। 

নিহতের চাচা ফারুক হোসেন জানান, আমার ভাতিজা খালার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। পরে আমরা খবর পাই সে বিলের পানিতে ডুবে মারা গেছে। ওর শোকে আমার ভাই-ভাবীসহ পরিবারের সবাই দিশেহারা।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরিফ হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো দুইজনকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।

কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন রায়হান চৌধুরী জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ তিনজনের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের লাশ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরী দল তাদের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।