পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে দেশে আর ফ্যাসিবাদ তৈরি হবে না: চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে দেশে আর ফ্যাসিবাদ তৈরি হবে না, জবাবদিহীতামূলক সরকার কায়েম হবে। তাহলেই একটি সুন্দর দেশ গঠন হবে। জবাবদিহীতার অভাবেই ফ্যাসিবাদ তৈরি হয়।

শনিবার বিকালে নগরীর শিববাড়ী মোড়ে বাংলাদেশকে ভবিষ্যৎ স্বৈরতন্ত্রের কবল থেকে রক্ষা করার জন্য রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার করা, পতিত ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দ্রুততার সঙ্গে নিশ্চিত করা, সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, বন্ধ মিল-কলকারখানা চালু ও ইসলামি সমাজভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর ও জেলা শাখা আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ১৫ বছরের পতিত ফ্যাসিবাদের বিষাক্ত ছোঁয়া এখনো দেশকে অনিরাপদ করে রেখেছে। পতিত স্বৈরাচার দেশকে অস্থিতিশীল করে সুযোগ নেওয়ার পাঁয়তারা করে যাচ্ছে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজ দলের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সমালোচনায়, বক্তব্যে ও মন্তব্যে শিষ্টাচারের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ কোনো অবস্থাতেই পতিত ফ্যাসিবাদকে কোন সুযোগ করে দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পরে দেশ গঠনের জন্য সংস্কার প্রয়োজন বলে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। সেই সংস্কার হতে হবে রাষ্ট্রের কাঠামোতে, আইনে এবং রাজনৈতিক দলের চরিত্র ও সংস্কৃতিতে। রাষ্ট্রের কাঠামো ও আইনি সংস্কারের কাজ কিছুটা অগ্রগতি হলেও রাজনৈতিক চরিত্র ও সংস্কৃতিতে তেমন কোনো পরিবর্তন আসে নাই।

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পরে রাজনৈতিক হানাহানিতে নিহত-আহত মানুষের সংখ্যা শুনে আঁতকে উঠতে হয়। চাঁদাবাজি কোনো অর্থেই কমে নাই। সন্ত্রাসও কমে নাই। বরং রাজনৈতিক পরিচয়ে ধর্ষণের মতো ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। মিডফোর্ট হাসপাতালের সামনে যে বর্বরতায় মানুষকে হত্যা করা হয়েছে- তার প্রতিবাদে জনতা ফুঁসে উঠেছে স্বাভাবিক কারণেই। জনতার সেই প্রতিবাদকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে বর্বর সেই হত্যাকাণ্ডকে আড়াল করে ফেলা হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পরে মানুষ এই ধরনের রাজনীতি আর দেখতে চায় না। এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের একটা বড় অংশ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিএনপি কর্তৃক তাদের বহিস্কারের মাধ্যমে এটা প্রমাণিতও বটে।

তিনি বিএনপি নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে বলেন, কর্মীদের অপরাধের দায়ভার দল হিসেবে আপনাদের বহন করতেই হবে। চাঁদাবাজরা বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ততা দেখিয়েই জনতার কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে। তাই জনতার ক্ষোভ বিএনপির প্রতি হবে এটাই স্বাভাবিক। জনতার এই প্রতিবাদকে প্রতিপক্ষ না বানিয়ে দলের ভেতরে থাকা অপরাধীদের চিহ্নিত করুন। অপরাধ ঘটার আগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি ও খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুফতী আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে ও মহানগর সহ-সভাপতি শেখ মো. নাসির উদ্দিন, জেলা সেক্রেটারি হাফেজ আসাদুল্লাহ আল গালিব ও মহানগর সেক্রেটারি খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুফতি ইমরান হোসাইনের যৌথ পরিচালনায় গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

গণসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তৃায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আমরা যারা সবাই ভূমিকায় ছিলাম, বলবো আসেন জাতির কমন ইস্যুতে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়। মানবতাবিরোধী অপরাধের ফ্যাসিস্ট হাসিনা যা করেছেন, জাতির ওপরে নির্বাচনের আগে তার বিচার দৃশ্যমান না হলে এদেশের জনগণ কোনো নির্বাচন হতে দেবে না। সংস্কার চাই, পিআর চাই। আমরা আরো দাবি করেছি জাতীয় নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রমাণের জন্য স্থানীয় নির্বাচন আগে দিতে হবে।

গণসমাবেশে বক্তৃতা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ও খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ, নায়েব আমীর হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) মুফতী মোস্তফা কামাল, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শুয়াইব হোসেন ও খুলনা জেলা সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল্লাহ ইমরান প্রমুখ।

পরে পীর সাহেব চরমোনাই খুলনার ৬ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাত পাখার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। তারা হলেন খুলনা-১ (দাকোপ- বটিয়াঘাটা) মাওলানা আবু সাঈদ, খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) মুফতি আমানুল্লাহ, খুলনা-৩ (খালিশপুর- দৌলতপুর-খানজাহান আলী-আড়ংঘাটা) হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল, খুলনা-৪ (রূপসা-দিঘলিয়া-তেরখাদাদা) হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ, খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) মুফতি আব্দুস সালাম ও খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনে হাফেজ আসাদুল্লাহ গালিব।