মুন্সীগঞ্জের ষোলঘর পালবাড়ির বাসিন্দাদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি প্রভাবশালী মহলের ইশারায় তাদের ৮০ বছরের পুরনো পৈত্রিক বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে। এসব নিয়ে আদালতে করা মামলার রায় থাকার পরও হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি লিখিতভাবে জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
জানা গেছে, পালবাড়ির ওই জমির কিছু অংশের মালিক লুৎফে হাবীব, নাঈমা হাবিব, ইমরান হাবিব ও নাসিমা হাবিব এবং কিছু অংশের মালিক শারমিন রহমান। তার পক্ষে আমমোক্তারনামা বলে দেখাশোনা করেন কাজী রুবেল। তারা জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগে বলা হয়, একটি মহলের চক্রান্তে পালবাড়িটি খাস জমি এবং সরকারি রাস্তা রয়েছেএই মর্মে ২০০৭ সালে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক জমির মালিকদের বিবাদী করে আদালতে মামলা করেন। অথচ ওই জমির বাসিন্দারা সাবকবলা দলিলমূলে মালিকানায় আছেন। সেটি কখনোই জমিদারি বা সরকারি খাস সম্পত্তি ছিল না। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় সরকার পক্ষ মামলা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়। জমিতে সরকারি কোনো অংশ বা ম্যাপে কোনো রাস্তা নেই। ফলে আদালত ২০১৮ সালে বিবাদী পক্ষে রায় দেয়। পরে সরকার পক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করে। কিন্তু সেখানেও ২০২৪ সালে মুন্সীগঞ্জ জেলা নিম্ন আদালতে পুনরায় রায় পান বিবাদী পক্ষ। তাদের জমিতে ৬ থেকে ৭ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট পাকা বাউন্ডারি ও ৮-১০টি পাকা ঘর নির্মাণ করা আছে। যেখানে বর্তমানে অন্তত ২০ জন ভাড়াটিয়া বসবাস এবং তারা নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করছেন।
কাজী রুবেলসহ জমির মালিকরা অভিযোগ করেন, ছয়-সাত মাস আগে একজন সার্ভেয়ারসহ কিছু অচেনা ব্যক্তি হঠাৎ তাদের জমির চারপাশে গিয়ে মাপজোক শুরু করেন। উপস্থিত ভাড়াটিয়া প্রতিবাদ করে এবং তাদের কাছে মাপজোকের কারণ জানতে চায়। তারা জানায়, ওই জমির ওপর দিয়ে রাস্তা করা হবে। খবর পেয়ে জমির মালিকরা লিখিতভাবে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসককে বিষয়টি অবগত করেন। জমিরা মালিকরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানান, ওই জমি তাদের পৈতৃক, সেখানে তারা শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখলে আছেন। সরকারি জমি বা ম্যাপে কোনো রাস্তা নেই। তাদের ওপর যাতে অন্যায় না হয়, সেবিষয়ে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চান। জেলা প্রশাসক তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অন্যায়ভাবে কিছু করা হবে না। এরপরই সহকারী কমিশানার (ভূমি) জমির মালিকদের নামে থাকা নামজারি বাতিলের নোটিস দেন। কারণ জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার ভূমি বলেন, ‘তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। উপরের নির্দেশে সব করতে হচ্ছে।’ তার কাছে নামজারি বাতিলের সার্টিফায়েড কপি চাইলে তিনি তা দিতে তালবাহানা করেন। কিন্তু সহকারী কমিশনার সার্টিফায়েড কপি দেওয়ার আগেই শিল্প মন্ত্রণালয়ে বদলি হন। ফলে দীর্ঘদিন পর নতুন সহকারী কমিশনার যোগ দিয়ে জমির মালিকদের সার্টিফায়েড কপি দেন। তারা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর কাছে আপিল করেন। ইতিমধ্যে সরকার পক্ষ হাইকোর্টে আপিল করে উল্লেখ করে ওই জমিতে তাদের দখল আছে, জমির মালিকরা তাদের কাজে বাধা দিচ্ছে। জমি প্রকৃত মালিকদের দখলে আছে। সেখাতে তারা বসতবাড়ি ও দোকানপাট করে ভাড়া দিচ্ছে। সরকার পক্ষে আপিলে কাজী রুবেলসহ জমির মালিকরা পক্ষভুত হন এবং পরবর্তী সময় শুনানির জন্য দিন ধার্য আছে। আদালতে মামরাটি বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক পাকা দেয়াল ও ঘরবাড়ি ভেঙে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা চলছে।’