শুবমান গিলকে দমিয়ে রাখেন গম্ভীর –অভিযোগ সাবেক তিন অধিনায়কের

কোচ হিসেবে গৌতম গম্ভীর ভীষণ কঠোর। মাঠ ও মাঠের বাইরে দলের সুতোটা নিজের হাতেই রাখতে চান সবসময়। দলের অধিনায়ক হিসেবে মাঠের সিদ্ধান্তগুলো শুবমান গিলেরই নেওয়া কথা, কিন্তু এখানেও নাকি গম্ভীর হস্তক্ষেপ করেন। এমনটাই অভিযোগ করেছেন ভারত ও ইংল্যান্ডের সাবেক তিন টেস্ট অধিনায়ক। প্রশ্ন উঠছে, অধিনায়ক শুবমান কি স্বাধীনভাবে দল পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছেন?

চলমান ম্যাঞ্চেস্টার টেস্টের চতুর্থ দিন মধ্যাহ্নভোজের বিরতির সময় সম্প্রচারকারী চ্যানেলে আলোচনায় বসেছিলেন ইংল্যান্ডের দুই সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেন এবং মাইকেল ভন এবং ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার। আলোচনার এক পর্যায়ে গাভাস্কার বলেন, ‘কোচ দলকে ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত করে দেবেন আর দল মাঠে নামলে দায়িত্ব অধিনায়কের। মাঠের পরিস্থিতি বুঝে অধিনায়ককেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়, সেখানে কোচের ভূমিকা থাকে না। একাদশ, ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে অবশ্যই কোচ-অধিনায়কের আলোচনা হবে; তবে সেটা খেলা শুরুর আগে, বিরতিতে কিংবা খেলা শেষে।’

গম্ভীরের কোচিংয়ের দিকে আঙুল তুলে মাইকেল ভন বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে কোচিংয়ের সঙ্গে সাদা বলের ক্রিকেটের কোচিংকে গুলিয়ে ফেললে হবে না। যেমন ব্রেন্ডন ম্যাকালাম অত্যন্ত ঠান্ডা মাথার মানুষ। নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে চলে। টেস্ট ক্রিকেট দীর্ঘ সময়ের খেলা, কঠিন খেলা। টেস্ট ক্রিকেটে ম্যান ম্যানেজমেন্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ। কার কী ভূমিকা হবে, সেটা ঠিকমতো বুঝিয়ে দিতে হয়। ক্রিকেটারদের মানসিকতা ঠিক রাখতে হয়। মাঠে নেমে তারা যাতে খেলাটা উপভোগ করতে পারে, সেটা দেখতে হয়। টি-টোয়েন্টি বা ওয়ানডে ক্রিকেটের মতো ভাবলে হবে না।’

‘ঠোঁটকাটা’ হিসেবে পরিচিত ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক আরও বলেন, ‘গম্ভীর সাদা বলের ক্রিকেটের কোচ হিসাবে বেশ ভালো। কিন্তু টেস্টের ক্ষেত্রে আরও উন্নতি করতে হবে। আমি অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের উদাহরণ দিতে পারি। সে ম্যাচের প্রতিটি দিন ধরে ধরে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে। কোচ হিসাবে ফ্লাওয়ার কেমন, সেটা সবাই দেখেছেন। গত ২০ বছরে ফ্লাওয়ারই সম্ভবত সেরা কোচ।’

চলতি সিরিজে ব্যাটার শুবমান সাফল্য পেলেও ভারতীয় দলের সার্বিক পারফরম্যান্স সন্তোষজনক নয়। প্রথম তিনটি টেস্টের দুটি হারার পর চতুর্থ টেস্টেও হারের মুখে শুবমানেরা। এমতাবস্থায় অধিনায়ক শুবমানেকে স্বাধীনতা দেওয়ার প্রয়োজনীতা তুলে ধরেন ভারতের কিংবদন্তি ওপেনার গাভাস্কার, ‘শুবমান হয়তো আরও ৮-১০ বছর খেলবে। এখন তার বয়স ২৪ বা ২৫। এখন তাকে নিজের দল তৈরি করে নিতে হবে। বয়স কম হওয়ায় তার আত্মবিশ্বসের হয়তো একটু অভাব আছে। পাশাপাশি কোচ গম্ভীর বেশ কঠিন চরিত্রের। অধিনায়কত্বের শুরুতে শুবমানের কাছে এটাই হয়তো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’

ইংল্যান্ডের আরেক সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেনের মতে, ‘রিকি পন্টিং, ব্রায়ান লারা, গ্রেম স্মিথের কথা বলতে পারি। এখনকার অধিনায়কদের মধ্যে বেন স্টোকস, প্যাট কামিন্সের কথা বলতে পারি। অধিনায়ক হিসাবে তারা ড্রেসিংরুমেও অত্যন্ত সাহসী। অধিনায়ককে বোঝাতে হবে যে, দলটা তার। শুবমান এই সিরিজ থেকে অনেক কিছু শিখবে। অধিনায়কত্বও শিখতে হয়। অধিনায়ককে নিজের উপস্থিতি বোঝাতে হয়। কেমন দল নিয়ে খেলতে চায়, সেটা পরিষ্কার করে বলতে হয়। নাহলে শক্তিশালী অধিনায়ক হওয়া কঠিন। শুবমান এখনও সেই পর্যায় পৌঁছাতে পারেনি।’