‘যার জন্য করলাম চুরি, সেই বলে চোর!’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল মুরাদনগরের খাদিজা আক্তার কেয়ার। কিন্তু শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে তিনি সংগঠন থেকে সড়ে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তার এ ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

কেয়া কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার উত্তর ত্রিশ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কোম্পানিগঞ্জ বদিউল আলম ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। 

কেয়া লেখেন, ‘যার জন্য করলাম চুরি, সেই বলে চোর! এটা আমার ক্ষেত্রেই যে প্রযোজ্য হবে না, কে বলল?’

তিনি আরও লেখেন, আপনারা সবাই জানেন আমি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন দায়িত্বশীল কর্মী ছিলাম। কিন্তু আজকের পর থেকে এই আন্দোলনের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

কেয়া দাবি করেন, আন্দোলনের মূল চেতনার সঙ্গে আপস করা হচ্ছে। আমরা একটি গণ-অভ্যুত্থানের পর একটি প্ল্যাটফর্মে এসেছিলাম মুরাদনগর থেকে। সেই অভ্যুত্থানে আমাদের হাজারো ভাই-বোন শহীদ হয়েছেন। আমি তাদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করতে পারি না। তাই আমি নিজেই এইসব কিছু থেকে সরে দাঁড়ালাম।
নিজেকে রাজনীতি-বহির্ভূত বলেও দাবি করেছেন কেয়া। লিখেছেন, আমি কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি কেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না, ভবিষ্যতেও থাকব না। তবে দেশের স্বার্থে সবসময় সংগ্রামে থাকব ইনশা আল্লাহ।

কেয়া বলেন, ‘সম্প্রতি কুমিল্লা টাউনহলে এনসিপির একটি পদযাত্রায় আওয়ামী লীগের লোকজন সামনের সারিতে ছিলেন। অথচ তারাই একসময় এই আন্দোলনে বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ কেয়ার। এ রকম কিছু দেখে মনে হয়েছে শহীদদের সঙ্গে বেঈমানি করা হচ্ছে। আমি এসব মেনে নিতে পারিনি।’

তিনি জানান, আমি কাউকে না জানিয়েই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি। আমার বিবেক যা বলেছে, সেটাই করেছি।

এ বিষয়ে আন্দোলনের কুমিল্লা জেলা সমন্বয়ক সাকিব হোসাইন বলেন, ‘কেয়ার পদত্যাগের খবর শুনেছি। তবে আমরা এখনো কোনো লিখিত পদত্যাগপত্র পাইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সে যে অভিযোগ তুলেছে, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। এনসিপির কোনো প্রোগ্রামে যদি রাজনৈতিক দলের কেউ থাকেন, তাহলে সেটা আমাদের জানার বিষয় ছিল না। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।’

কেয়ার পদত্যাগ নিয়ে ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। কেউ সরাসরি প্রতিক্রিয়া না জানালেও, অনেকেই বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন।