জোনায়েদ সাকি

এক ব্যক্তির হাতে সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে ‘স্ট্রিম রোলার’ চালানো হয়েছে

দেশের সংবিধান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রতিষ্ঠিত হলেও সেটির কাঠামোতে গণতন্ত্র ও জনগণের ক্ষমতা প্রতিফলিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। বরং সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা একজন ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত করে দেশের জনগণের ওপর ‘স্ট্রিম রোলার’ চালানো হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

রবিবার (২৭ জুলাই) বিকালে টাঙ্গাইল শহীদ মিনারে গণসংহতি আন্দোলন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ২০১১ সালে যখন শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়ে পঞ্চদশ সংশধোনী করলো তখনি পরিষ্কার বোঝা গেছে তারা আসলে একটি ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করতে চায়। একটা কর্তৃত্ববাদী স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চায়। তাদের যে বাসনা, নিজেদের শাসনকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে পরিণত করা। সেই বাসনাকে সাহায্য করেছে আমাদের দেশের সাংবিধানিক স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামো। এই কথা আমরা গণসংহতি কমিটির জন্মলগ্ন থেকে বলে আসছি।

তিনি বলেন, এই শাসকেরা আমাদের ভোটের অধিকারসহ সব অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। আমরা দেখেছি কীভাবে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা গিলে খাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ সরাসরি ২০১১ সাল থেকে এই ফ্যাসিবাদী প্রবণতা ও স্বৈরতন্ত্র কায়েমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। আমরা ২০১১ সাল থেকে বলেছি, বাংলাদেশে একটা গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রতিষ্ঠা না করে এই ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে আমরা মুক্তি পাবো না।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী বলেন, ২০১৪ সালে তামাশার নির্বাচনের পর থেকে বিরোধী দলের ওপর হামলা, মামলা, গুম, খুন, অত্যাচারের কোনো সীমা ছিল না। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে আমরা বলেছি, একটা নতুন জাতীয় সনদ ও একটা নতুন সামাজিক রাজনৈতিক চুক্তি ছাড়া বাংলাদেশ আর অগ্রসর হতে পারবে না। কারণ আমাদের রাষ্ট্রটা যে চুক্তির বলে আছে, সেই চুক্তি দেশের বেশিরভাগ মানুষ ও দলকে রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে ছুঁড়ে ফেলেছে। তাই তখনই আমরা বলেছিলাম, বিদ্যমান ব্যবস্থা আর দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারছে না।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের রাতের ভোটের নির্বাচনের পর সব দল বুঝতে সক্ষম হলো, এই ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রেখে আমরা আর অগ্রসর হতে পারব না। আমরা যখন এই কথাগুলো বলছিলাম, দলগুলোতে এক করার জন্য উদ্যোগ নিলাম, তখন অনেকেই একমত হয়েছেন যে, রাষ্ট্র ব্যবস্থার মেরামত করতে হবে।

এর আগে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ও মাজার জিয়ারত করেন তিনি।

গণসংহতি আন্দোলন টাঙ্গাইল জেলার সংগঠক তুষার আহমেদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, ছাত্র ফেডারেশনের টাঙ্গাইল জেলার সভাপতি ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ফাতেমা রহমান বিথী, শহীদ মোহাম্মদ ইমনের ভাই মোহাম্মদ সুজন, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য আলিফ দেওয়ান, জাতীয় পরিষদের সদস্য আশরাফুল আলম সোহেল, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সদস্য সচিব ফারজানা জেসমিন, মধুপুর উপজেলার সংগঠক গোবিন্দ বর্মণ, নাগরপুর উপজেলার সংগঠক আলিম মোল্লাসহ দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।