গাজা পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী সপ্তাহেই মন্ত্রিসভার বৈঠক আহ্বান করতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাজ্যের একটি সরকারি সূত্র।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস প্রথমে খবরটি প্রকাশ করে জানায়, যদিও এখন গ্রীষ্মকালীন অবকাশে রয়েছেন মন্ত্রীরা এবং তাদের ছুটি ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, তবে এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আগেভাগেই বৈঠকে বসছেন তারা।
স্টারমারের দপ্তরে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে রয়টার্সকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
এই বৈঠক এমন এক সময়ে আহ্বান করা হচ্ছে, যখন স্টারমার সম্প্রতি বলেছেন— ‘শুধুমাত্র একটি আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবেই ব্রিটিশ সরকার ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে।” তবে তার এই অবস্থান লেবার পার্টির অনেক সদস্যের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে, যারা ফ্রান্সের মতোই দ্রুত স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষপাতী।
এর আগে, লেবার পার্টিসহ ৯টি রাজনৈতিক দলের ২২০ জনের বেশি সংসদ সদস্য ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। তারা বলেন, ‘আমরা আপনাকে অনুরোধ করছি আগামী সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিন।’
চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা বুঝি, যুক্তরাজ্যের একার পক্ষে স্বাধীন ও মুক্ত ফিলিস্তিন গঠন সম্ভব নয়। তবে যুক্তরাজ্যের স্বীকৃতি একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেবে বিশ্বকে।’
ব্রিটেনের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়ে চিঠিতে বলা হয়, ‘১৯১৭ সালের বেলফোর ঘোষণা’র মাধ্যমে ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা ছিল; এখন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়াও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’
এই যৌথ চিঠিতে কনজারভেটিভ, লিবারেল ডেমোক্র্যাট, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি এবং ওয়েলসের প্লাইড কামরিসসহ বিভিন্ন দলের এমপিরা স্বাক্ষর করেছেন। এতে মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তির পক্ষে যুক্তরাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করার জোরালো দাবি উঠে এসেছে।
ফ্রান্স ও সৌদি আরবের সহ-সভাপতিত্বে ২৮ ও ২৯ জুলাই জাতিসংঘের উদ্যোগে নিউ ইয়র্কে এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে।
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতির বিষয়টি নিয়ে স্টারমার নিজ দলেই বাড়তি রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিসভার এই বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।