নামটা মনে রাখুন—দ্রো। ১৭ বছর বয়সী এই ফুটবলারের খেলায় মুগ্ধ হয়েছেন বার্সেলোনার কোচ হ্যান্সি ফ্লিক। ক্লাব ইতিমধ্যেই তার চুক্তি নবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কারণ, তাদের বিশ্বাস—এই ছেলেটিই হতে পারে ভবিষ্যতের বড় তারকা।
হ্যান্সি ফ্লিকের কোচিং দর্শনেই রয়েছে সাহসী সিদ্ধান্ত। পরিচিত নাম কিংবা অভিজ্ঞতার চেয়ে তিনি প্রাধান্য দেন পারফরম্যান্সকে। গত মৌসুমেও দেখা গেছে, বড় নামকে বসিয়ে যুব দলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সুযোগ দিতে পিছপা হননি। এবারও একই পথে হাঁটছেন তিনি। আর তাতে উঠে এসেছেন এক নাম—পেদ্রো ফার্নান্দেস।
ভিগোতে জন্ম নেওয়া দ্রোর মা ফিলিপিনো, বাবা গালিশিয়ান। ২০২২ সালে বার্সার যুব দলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেললেও মধ্যমাঠ কিংবা বাঁ প্রান্তের উইঙ্গার হিসেবে খেলার দক্ষতা তাকে ব্যতিক্রমী করে তুলেছে।
এশিয়ান ট্যুরে জাপানের ক্লাব ভিসেল কোবের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ৭৯তম মিনিটে বদলি নেমেছিলেন দ্রো। তাকে জায়গা ছেড়েছিলেন মার্কাস রাশফোর্ড। মাত্র আট মিনিট পরই গোল। অভিষেকেই গোল করে জানান দিয়েছেন নিজের সামর্থ্যের কথা।
ম্যাচ শেষে তরুণ এই তারকা বলেন, 'আমি একটু নার্ভাস ছিলাম। তবে প্রথম সুযোগটাই কাজে লাগাতে পেরেছি। বিশ্বের সেরা ক্লাবের হয়ে প্রথমবার মাঠে নেমে বেশ নার্ভাস লাগছিল। ফ্লিকের সঙ্গে কথা বলে কিছুটা স্বস্তি পাই, সতীর্থদেরও ধন্যবাদ দিতে চাই, কারণ ওরা আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।'
বার্সার কোচ ও কর্তারা ড্রোর প্রতিভা নিয়ে খুবই সিরিয়াস। তার বল নিয়ন্ত্রণ, খেলার দৃষ্টিভঙ্গি, সৃজনশীলতা, ও লাইন ভাঙার ক্ষমতা চোখে লেগেছে সবার। ফ্লিক দুই সপ্তাহ আগে তাকে মূল দলের অনুশীলনে নিয়ে যান। তখনই কাছ থেকে দেখে আরও মুগ্ধ হন এই জার্মান কোচ।
দ্রো ছাড়াও জোফ্রে, গুইয়ে, টনি ফার্নান্দেস, কোচেনসহ কয়েকজন তরুণকে নিয়ে যান এশিয়ান ট্যুরে। বয়স মাত্র ১৭ হলেও পারফরম্যান্সের দিক দিয়ে সবার নজর কাড়েন দ্রো।
ফ্লিক বলেন, 'জোফ্রে আর ড্রোর অভিষেক আমার ভালো লেগেছে। এরা প্রতিভাবান। দ্রো গোল করেছে... আমি খুশি। আমাদের কাজ এদের যত্ন নেওয়া, উন্নতি করতে সাহায্য করা। আমরা তা-ই করব।'
বার্সা দ্রোকে ধরে রাখতে চায়। ২০২৭ সাল পর্যন্ত তার চুক্তি থাকলেও এখনই নবায়ন নিয়ে কথা চলছে। কারণ, এই রত্নকে হাতছাড়া করতে চায় না তারা।
সত্যিই, যদি বার্সা সঠিকভাবে গড়ে তোলে, তবে 'দ্রো' নামটি ভবিষ্যতের ফুটবলে বড় কিছু হয়ে উঠতে পারে।