২০১৩ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া তক্তারপুল এলাকায় ইকবাল নামে এক যুবককে খুনের পর তার লাশ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ‘হাশেম ম্যানশন’ নামে একটি ভবনের নিচতলার একটি কক্ষের টয়লেটে। ইকবাল হত্যা মামলায় প্রধান আসামি ছিলেন এই মো. মহিউদ্দিন (৪৫)। ইকবাল হত্যা মামলায় ১১ বছর কারাভোগ করেন তিনি। গত বছরের ২৫ রমজান জামিনে মুক্তি পান মহিউদ্দিন। জামিনে মুক্তির বছর দেড়েকের মাথায় সেই ভবনের টয়লেট থেকেই গত ২৫ জুলাই রাতে মহিউদ্দিনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
মহিউদ্দিনের লাশ উদ্ধারের দুদিনের মাথায় গত রবিবার রাতে বাকলিয়ার তক্তারপুল খালপাড় এলাকা থেকে মো. সুমন (১৯) নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর ডিবি পুলিশ। সুমনের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, সুমনকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে মহিউদ্দিন খুনের রহস্য। চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর জোনের উপকমিশনার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মাদক কারবার নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরেই মহিউদ্দিনকে খুন করা হয়েছিল।’
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার হওয়া সুমনের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর থানায়। তবে তিনি বর্তমানে বাকলিয়ার দৌলতখানের কলোনিতে বসবাস করছিলেন। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, মাদক ব্যবসায় আধিপত্য ও পূর্বশত্রুতার জেরে গত ২৫ জুলাই বিকেলে আরাকান রোডসংলগ্ন ৫ নম্বর সেতুর পাশে সুমন গুলি করে মহিউদ্দিনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
বিদেশি যে পিস্তল দিয়ে মহিউদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছিল, সেই পিস্তলটি বাকলিয়ার তক্তারপুল এলাকার খালের পাড়ে একটি ইটের স্তূপের নিচ থেকে তিন রাউন্ড গুলিসহ উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।