বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তীব্র সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘বিএনপির রাজনীতিতে চাঁদাবাজির প্রবণতা এখন উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। তার অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর এই অপসংস্কৃতি আরও বিস্তার লাভ করেছে, আর এখন দলটি নিজেদের দায় এড়িয়ে যুবকদের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে।’
আজ মঙ্গলবার টাঙ্গাইলে ‘জুলাই পদযাত্রা’ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির আগে এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। সাক্ষাৎকারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দলের ভেতরে চাঁদাবাজির কার্যক্রম বন্ধ করতে তাকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’
নাহিদ ইসলামের ভাষায়, ‘বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তাদের অর্থনৈতিক লেনদেনের উৎস বা ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে জনগণের কাছে কোনো জবাবদিহিতা নেই। দেশের রাজনীতিতে যে চাঁদাবাজির ওপর অর্থনীতি গড়ে উঠেছে, সেই কাঠামো ভেঙে দিতে হবে। একে নির্মূল করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদের গুরুত্ব কেবল ঘোষণায় সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। এটিকে সংবিধানিক বৈধতা দিতে হবে। গণপরিষদ, গণভোট অথবা এলএফও (আইনগত বাধ্যতামূলক উপকরণ) এর মাধ্যমে এই সনদ কার্যকর করতে হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে যেই সরকার গঠন হবে, তাকে এই সনদ বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে।’
নাহিদ ইসলাম নির্বাচন ব্যবস্থা ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সংস্কারের প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তার ভাষ্য, ‘যদি নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি নিয়োগ কমিটি গঠিত হয়, তাহলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)-তেও একই কাঠামো অনুসরণ করে নিয়োগ দেওয়া উচিত। সরকারি চাকরিতে দলীয় প্রভাব নয়, নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা করাই তরুণ প্রজন্মের অন্যতম বড় চাওয়া।’
উচ্চকক্ষ ও অন্যান্য সাংবিধানিক কাঠামো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উচ্চকক্ষে যদি পার্লামেন্টারি রিভিউ (পিআর) ব্যবস্থা চালু করা যায়, তবে জবাবদিহিতার পরিবেশ সৃষ্টি হবে। যুক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তা যেন দেশ ও জাতির কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, এই নীতিই সামনে রাখতে হবে।’