ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাড়ির দখল নিতে বাবার হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ 

সম্পত্তির লোভে নিজের বাবার হাত-পা ও বুক কুপিয়ে রক্তাক্ত করলেন এক ছেলে। অভিযোগ, বাবার ওপর হামলা করে তার হাত ও পায়ের রগ পর্যন্ত কেটে দিয়েছেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২৭ জুলাই) বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাপরতলা ইউনিয়নের তারাউলা গ্রামে। গুরুতর আহত ৭৮ বছর বয়সী বৃদ্ধ ধন মিয়াকে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় পাঠানো হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের শয্যায় যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ধন মিয়া বলেন, ‘আমার দুই সংসার। প্রথম স্ত্রীর ঘরে পাঁচ ছেলে, দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে দুই ছেলে। মোট সাতটা পোলারে আমি সাতটা বাড়ি কইরা দিছি। কাউরে বঞ্চিত করি নাই।’

ধন মিয়া জানান, তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে একটি আলাদা বাড়িতে থাকেন। কিন্তু প্রথম স্ত্রীর তৃতীয় ছেলে মাসুক মিয়া সেই বাড়িটিও জোর করে দখল করতে চাচ্ছিলেন। নিজেকে দান করা বাড়িতে না থেকে তিনি বাবার বাড়ির অর্ধেক দখল করে নেন এবং পুরো বাড়ি দখলের জন্য চাপ দেন।

ঘটনার দিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সোমবার সকালে বাড়ি দখলের বিষয় নিয়া ছেলের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরে বাড়ির পাশে মসজিদের সামনে একা পাইয়া সে আমার ওপর দা নিয়া ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমার হাত-পায়ে কোপাইতে থাকে। আমি মাটিতে পইড়া গেলে আশপাশের মানুষ আর আমার অন্য ছেলেরা আমারে হাসপাতালে নেয়।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের ট্রমা সার্জন ডা. মো. সোলায়মান মিয়া বলেন, ‘বৃদ্ধ মানুষটির হাত ও পায়ের একাধিক হাড় ভেঙে গেছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে একটি হাত ও একটি পায়ের রগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আমরা ঢাকায় রেফার করেছি।’

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ছেলে মাসুক মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তার অপর ভাই কাউছার মিয়া বলেন, ‘আমার ভাই মাসুক একজন আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। তার বিরুদ্ধে পুলিশের গাড়িতে ডাকাতি ও হত্যা চেষ্টাসহ হবিগঞ্জ জেলায় একাধিক মামলা রয়েছে। প্রাণ ভয়ে আমিও বাড়ি ছেড়ে চলে গেছি।’

নাসিরনগর থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা শুনেছি। একজন বৃদ্ধ বাবাকে তার সন্তান এভাবে মেরেছে, এটা খুবই দুঃখজনক। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আমরা দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’