সাত বছর পূর্বে দুইজন সহপাঠী বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল তাতে পুরো দেশ জেগে উঠেছিল। সেই আন্দোলনের তরঙ্গ থেকেই জন্ম নিয়েছে রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি যা কালক্রমে ২০২৪-এ এসে গণঅভ্যুত্থানের জন্ম দিয়েছে। তাই সার্বিক সংস্কারের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সড়ক নিরাপত্তা বাড়বে বলে একটা জনপ্রত্যাশা ছিল কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য এই সরকাররের সময়ে সড়ক পরিবহনে ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ৭ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘নিসআ’ আয়োজিত আলোচনা সভায় এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু একথা বলেন।
সংগঠনটির আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ মেহেদী দীপ্তর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব ও বুয়েটের সহযোগী অধ্যাপক আরমানা সাবিহা হক।
মঞ্জু আরও বলেন, সাধারণত তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তী ধরনের সরকারের আমলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসে, কিন্তু এবার দেখলাম পুরোপুরি উল্টো। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে যাওয়ার পূর্বে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের দাবীগুলো পূরণ করে যেতে হবে। এই নিরাপদ সড়কের আন্দোলনটি একদিন নিরাপদ বাংলাদেশে পরিণত হওয়ার আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি।
মজিবুর রহমান মঞ্জু আরো বলেন, অনেকেই তরুণদের সমালোচনা করে বলে তাদের আচরণ ঔদ্ধত্যপূর্ণ। আমি তাদেরকে জবাব দেই আমাদের তরুণদের ঔদ্ধত্যপূর্ণতার কারণেই আমরা হাসিনাকে বিদায় করতে পেরেছি, তরুণদের সাহসের জন্যই তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে বলেছিলো ‘তোমার লাইসেন্স কোথায়?’ আমাদের তরুণরা নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলন করছে, তরুণদের নিয়ে আমি আশাবাদী, তরুণদের নিকট থেকে আমাদের প্রত্যাশা শেষ হয়ে গেলে আমাদের যাওয়ার আর কোন পথ থাকবেনা। যে তরুণের হাত ধরে রাষ্ট্র সংস্কার চলছে সেই তরুণরা নিরাপদ সড়ক আন্দোলনেও সফল হবে বলে আশা করছি।