জড়িতদের বিচারের দাবি দুই মানবাধিকার সংস্থার 

গঙ্গাচড়ায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন

রংপুরের গঙ্গাচড়ার বেতগাড়ি ইউনিয়নে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তত ১৫টি বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে দেশের দুই মানবাধিকার সংগঠন—আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।

মঙ্গলবার পৃথক দুটি বিবৃতিতে তারা এই হামলাকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের স্পষ্ট উদাহরণ উল্লেখ করে অবিলম্বে দোষীদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানায়।

আসক-এর বিবৃতিতে বলা হয়, শুধুমাত্র এক কিশোরের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ম অবমাননার অভিযোগের ভিত্তিতে একটি পুরো সম্প্রদায়ের ওপর যেভাবে সহিংসতা চালানো হয়েছে, তা কোনো সভ্য রাষ্ট্র বা সমাজে কল্পনাও করা যায় না। এটি সংবিধানে প্রদত্ত নাগরিকদের সমান অধিকার এবং মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ধর্মীয় অনুভূতির দোহাই দিয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনা বারবার ঘটছে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই দায়মুক্তির সংস্কৃতি ভয়াবহ বিচারহীনতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে যা রাষ্ট্রীয় নীতির পরিপন্থী।

আসক এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দোষীদের শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানায় এবং ধর্মীয় উসকানি ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারের বলিষ্ঠ ভূমিকা প্রত্যাশা করে।

অন্যদিকে, এইচআরএসএস-এর বিবৃতিতে বলা হয়, ফেসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে পুরো একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালানো শুধু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার প্রতি হুমকি নয়, বরং বাংলাদেশের ধর্মীয় সহাবস্থান, সংবিধান এবং মানবাধিকারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।

এইচআরএসএস মনে করে, এ ধরনের হামলা পরিকল্পিত এবং এর পেছনে উসকানিদাতারা সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তারা অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পূর্ণ পুনর্বাসনের জোর দাবি জানায়।