জামায়াত আমির

বিচার ও সংস্কারের আগে নির্বাচন হলে ‘জাতীয় বিপর্যয়’ ঘটতে পারে

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর বলেছেন, ‘সবার আগে এটি নিশ্চিত করতে হবে যে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন-এই তিনটি প্রক্রিয়া সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে আবারও জাতীয় বিপর্যয় ঘটতে পারে।’

জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার আয়োজনে রাজধানীতে মঙ্গলবার আয়োজিত ‘জুলাই স্মরণসভায়’ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

চব্বিশের অভ্যুত্থানের শহীদ ও জীবিত শহীদদের ‘জাতির সম্পদ’ হিসেবে স্বীকৃতি নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘শহীদ ও জীবিত শহীদরা আমাদের সম্পদ। এ স্বীকৃতি দিতে হবে এবং বাস্তব সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। সরকার ও জাতির পক্ষ থেকে এ দায়িত্ব পালিত হওয়া উচিত। ইতিহাস যেন হারিয়ে না যায়, সেটিকে ধরে রাখা আমাদের কর্তব্য।’

তিনি বলেন, ‘শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে আমাদের স্মরণ করতে হবে, কারণ আজকের অবস্থানও এসেছে তাদের ত্যাগের বিনিময়ে। শহীদ পরিবারের সদস্যরা কোনো বিচার না দেখে নির্বাচনে আগ্রহী নন। তাদের বক্তব্য- যারা জঘন্য অপরাধ করেছে, তাদের মধ্যে অন্তত কয়েকজনের বিচার চোখে দেখতে চাই।’

জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিংয়ের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘সেখানে কিছু অপূর্ণতা ছিল, তা পূরণ করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের ওপর অবিচার হয়েছে, আমাদের নেতাদের বিচারিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে- এমন বিচার আর দেখতে চাই না। বিচার যেন শতভাগ স্বচ্ছ ও ন্যায়ের ভিত্তিতে হয়। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পেলে কেউই পার পাবেন না-এ বিশ্বাসই আমাদেও রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যারা খুন করেছে, তারা যেন তাদের ন্যায্য শাস্তি পায় এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর হয়। এই প্রক্রিয়ায় দলের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

সরকার গঠনে সুযোগ পেলে কিংবা বিরোধী দলে থাকলেও জামায়াতের ভূমিকা হবে ‘স্পষ্ট, ন্যায়নিষ্ঠ ও অকুতোভয়’ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কাউকে ভয় করব না, শুধু আল্লাহকে। দায়বদ্ধ থাকব নিজের বিবেক ও দেশবাসীর কাছে। অন্য দলগুলো থেকেও একই প্রতিশ্রুতি আশা করি। কে সরকার গঠন করবে তা নিয়ে প্রশ্ন নেই। তবে যারাই আসুক, তারা যেন জাতির এই আমানত রক্ষা করেন। আমাদের যেন কেউ বিশ্বাসঘাতক বলতে না পারে। সরকার ও বিচার বিভাগ আপসহীন থেকে চলবে-এই প্রত্যাশা করি।’

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘চোখ হারানো মানুষের সংখ্যা ৫০০-এর কাছাকাছি, পঙ্গু বা প্যারালাইজড হয়েছেন আড়াইশর বেশি। পাঁচ হাজারের কম নয়, যারা জীবিত লাশ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।’

জামায়াতের পক্ষ থেকে জুলাই শহীদদের প্রোফাইল করে ১২ খণ্ডে সংরক্ষণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলা, ইংরেজি ও আরবি ভাষায় তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। অন্ধ, পঙ্গু ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের নিয়েও কাজ চলছে। এ কাজ সরকারিভাবে সম্পন্ন হলে সেটি হবে অধিকতর কার্যকর।’

অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির প্রস্তাব দিয়ে বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সরকারকে উদ্যোগ নিলে জামায়াত প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে।’