সৌর ও বায়ুশক্তি এখন বিশ্বব্যাপী জীবাশ্ম জ¦ালানির তুলনায় বেশি সাশ্রয়ী। এ ছাড়া, এটি কারিগরি ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক বলে জানিয়েছে এনার্জি ট্রানজিশনস কমিশন (ইটিসি)। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত সংস্থাটির একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার মতো সূর্যালোক প্রবণ অঞ্চলে সৌর বিদ্যুতের খরচ কমে আসা এবং ব্যাটারি প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এই খাতে দ্রুত ও কম খরচে রূপান্তর সম্ভব।
‘বিদ্যুৎ ব্যবস্থার রূপান্তর : উচ্চ নবায়নযোগ্য শক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতামূলক ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ চাহিদা ৩০ হাজার টেরাওয়াট থেকে বেড়ে ৯০ হাজার টেরাওয়াট বা তিনগুণ হতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ চাহিদা শূন্য-কার্বন নবায়নযোগ্য শক্তি, বিশেষ করে সৌর ও বায়ু শক্তি থেকে পূরণ হতে পারে। বর্তমানে এই হার প্রায় ২০ শতাংশ।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ)-এর বাংলাদেশবিষয়ক প্রধান শক্তি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশসহ অনেক দেশে নবায়নযোগ্য শক্তির খরচ কমছে। সঠিকভাবে জমি বরাদ্দ এবং প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে ট্রান্সমিশন খরচ নিশ্চিত করা গেলে সৌর বিদ্যুৎ জীবাশ্ম জ¦ালানির একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো তাদের সূর্যালোক প্রবণ ভৌগোলিক অবস্থানের সুবাদে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিরাট সম্ভাবনা রাখে। সাশ্রয়ী সৌর প্যানেল এবং উন্নত ব্যাটারি প্রযুক্তির কারণে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনে নেতৃত্ব দিতে পারে।
ইটিসির চেয়ারম্যান লর্ড অ্যাডেয়ার টার্নার বলেন, পারমাণবিক ও ভূতাপীয় প্রযুক্তি শূন্য-কার্বন বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ভূমিকা রাখলেও অধিকাংশ দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৭০ শতাংশ বা তার বেশি সৌর ও বায়ুশক্তি থেকে আসবে, যা জীবাশ্ম জ্বালানির চেয়ে কম খরচে সম্ভব। বিশেষ করে সূর্যালোকপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে সৌর ও ব্যাটারির দাম কমে যাওয়ায় দ্রুত ও সাশ্রয়ী পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ এখন সম্ভব, যা এক দশক আগেও অকল্পনীয় ছিল।