রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপে বুধবার (৩০ জুলাই) ভোররাতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৭, যা সাম্প্রতিক কয়েক দশকে রাশিয়ার ভূখণ্ডে অনুভূত সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পন বলে মন্তব্য করেছেন অঞ্চলটির গভর্নর ভ্লাদিমির সলোডভ। এই ভূকম্পনের জেরে একাধিক দেশে জারি করা হয়েছে সুনামি সতর্কতা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, ভূমিকম্পের পরপরই কামচাটকার উপকূলে চার মিটার পর্যন্ত উঁচু জলোচ্ছ্বাস দেখা দেয়। এর পরপরই সুনামির আশঙ্কায় জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের উপকূলীয় অঞ্চলে সতর্কতা জারি করে কর্তৃপক্ষ।
জাপানের পূর্ব উপকূলে তিন মিটার উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ)। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে হোক্কাইডোর উত্তরের উপকূলে প্রবল ঢেউ আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ধীরে ধীরে দক্ষিণের দিকে অগ্রসর হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের হনলুলু জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘বিধ্বংসী সুনামি ঢেউয়ের’ সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পের মূল উপকেন্দ্র ছিল কামচাটকার পেট্রোপাভলোভস্ক-কামচাটস্কি শহরের পূর্বদিকে ১৩৬ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এরপর পেট্রোপাভলোভস্ক ও ভিলিউচিনস্ক শহরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে আরও দুটি ভূকম্পন অনুভূত হয়, যেগুলোর মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৬ দশমিক ৯ ও ৬ দশমিক ৩।
তাইওয়ানও তাদের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে সুনামি সতর্কতা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষকে উপকূল থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।
ভার্জিনিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামি বিশেষজ্ঞ রবার্ট ওয়েইস এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এই ভূমিকম্প নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়াটাই সঠিক।’
প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলজুড়ে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় জনগণের চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে এবং সাগরের কাছে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আবহাওয়া, ভূতাত্ত্বিক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো।