হাওর ও বিলে মাছ ধরার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় পচে গিয়ে জেলেদের লোকসান গোনা ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হাওরের জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের এই ক্ষতি কমাতে এবার দেওয়া হয়েছে বিশেষায়িত তাপনিয়ন্ত্রিত বাক্স (ইনসুলেটেড ফিশ বক্স)। এই বক্স ব্যবহারের ফলে দীর্ঘ সময় মাছের গুণগত মান ঠিক থাকবে। যা মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি কমিয়ে আনতে সহায়ক হবে।
বুধবার (৩০ জুলাই) সকালে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় চত্বরে ২৫ জন মৎস্য ব্যবসায়ীর হাতে এই বক্স তুলে দেওয়া হয়। মৎস্য অধিদপ্তর এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) যৌথ উদ্যোগে ‘কমিউনিটি বেইজড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ফিশারীজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় এই সহায়তা দেওয়া হয়।
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্সগুলো বিতরণ করেন নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন। তিনি বলেন, নাসিরনগর হাওরবেষ্টিত এলাকা এবং এখানকার অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান বিশাল। এই ইনসুলেটেড বক্সগুলো মাছের অপচয় কমিয়ে প্রান্তিক মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীদের আয় বাড়াতে সরাসরি ভূমিকা রাখবে। সরকারের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীদের এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফাহিমুল আরেফিন বলেন, এই বক্সগুলো শুধু মাছকে পচনের হাত থেকে বাঁচাবে না বরং ভোক্তাদের কাছে নিরাপদ ও টাটকা মাছ পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করবে। আমরা সুবিধাভোগীদের বক্সের সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছি, যাতে তারা এর সর্বোচ্চ সুফল পান।
সহায়তা পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মৎস্য ব্যবসায়ী রতন দাস ও জওহরলাল দাস বলেন, একটা সময় আমাদের অনেক মাছ নষ্ট হইয়া যাইত, কম দামে বেচতে হইত। এই বক্স পাওয়ায় এখন আর সেই চিন্তা থাকব না। আমরা ভালো দামে টাটকা মাছ বেচতে পারমু। সরকার আর এই বিদেশি সংস্থার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন এফএওর ক্লাইমেট চেঞ্জ স্পেশালিস্ট ড. মনিরুল ইসলাম, ন্যাশনাল মনিটরিং স্পেশালিস্ট হেনা বাড়ৈ এবং ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর ড. শফি উল্লাহ্।