গত বছর (৩০ জুলাই) ঠিক এই দিনে দীর্ঘদিন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান নন্দিত সংগীতশিল্পী হাসান আবিদুল রেজা জুয়েল। তাকে হারানোর এক বছর পূর্ণ হলো আজ।
এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে একটি স্মরণানুষ্ঠান— ‘মহাকালের এক বছর’। ১ আগস্ট রাজধানীর মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে গান ও স্মৃতিচারণায় জুয়েলকে স্মরণ করবেন সহকর্মী ও বন্ধুজন।
জুয়েলের ভাই মহিবুর রেজা রুবেল বলেন, ‘এটি স্মরণসভার মতো কোন ট্র্যাডিশনাল আয়োজন নয়। এখানে জুয়েলকে নিয়ে থাকবে আলোচনা, নীরব শ্রুতি গান, তার কাজের ওপর অডিও-ভিজুয়াল উপস্থাপনা এবং দোয়ার আয়োজন। সবাইকে এই আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই আয়োজনে সংগীত ঐক্য, বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ, সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার, আঁখি আলমগীর, আলিফ আলাউদ্দিনসহ সংগীতজগতের অনেকেই উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
ব্যান্ড সঙ্গীত যখন তুমুল আলোচনায়, ঠিক তখনই ব্যতিক্রমী কণ্ঠ নিয়ে হাজির হন শিল্পী হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল। ব্যাংকার বাবার চাকরির কারণে ছোটবেলায় তাকে থাকতে হয়েছিল দেশের বিভিন্ন জায়গায়। মা–বাবার অনুপ্রেরণাতেই গানের জগতে পা রাখেন জুয়েল। প্রথম শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রতিবেশী একজনের কাছে গান শিখেছিলেন আর মঞ্চে প্রথম গান করেছিলেন তখন তিনি পড়েন চতুর্থ শ্রেণিতে।
১৯৮৬ সালে ঢাকায় চলে আসেন জুয়েল। এসেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি–কেন্দ্রিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক তৎপরতায় জড়িয়ে পড়েন। তখনই বিভিন্ন মিডিয়ার সঙ্গে তার যোগাযোগ ঘটতে শুরু করে।
জুয়েলের প্রথম অ্যালবাম ‘কুয়াশা প্রহর’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৩ সালে। এরপর একে একে প্রকাশিত হয় ‘এক বিকেলে (১৯৯৪)’, ‘আমার আছে অন্ধকার’ (১৯৯৫), ‘একটা মানুষ’ (১৯৯৬), ‘দেখা হবে না’ (১৯৯৭), ‘বেশি কিছু নয়’ (১৯৯৮), ‘বেদনা শুধুই বেদনা’ (১৯৯৯), ‘ফিরতি পথে’ (২০০৩), ‘দরজা খোলা বাড়ি’ (২০০৯) এবং ‘এমন কেন হলো’ (২০১৭)।
তার লেখা গান নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে আরও দুটি অ্যালবাম ‘তাতে কি বা আসে যায়’ (২০১৬) এবং ‘এই সবুজের ধানক্ষেত’ (২০১৬)। ১০টি একক অ্যালবামের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে ‘এক বিকেলে’ অ্যালবামটি। এটি প্রকাশের পর তার নাম হয়ে যায় ‘এক বিকেলের জুয়েল’। জুয়েল একই সঙ্গে সংগীতশিল্পী, টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাতা ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, আর্থিক ও মনের কথা বিবেচনা করে তিনি তার পেশাকে দুটো ভাগে ভাগ করে নিয়েছেন। গান করতেন হৃদয়ের টানে। শিল্পী জুয়েল হিসেবে পরিচিত হতেও পছন্দ করতেন। তাই গান করার সময় যাতে আর্থিক টানাপোড়েনে পড়তে না হয়, সে জন্য আরেকটি পেশাও তিনি বেছে নিয়েছিলেন।