৫০০ মিলিয়ন খরচের পরও ফুটবলার কিনতে আর্থিক বাধা নেই লিভারপুলের

আর্নে স্লটের অধীনে লিভারপুল এই গ্রীষ্মে এক ঝাঁক তারকা খেলোয়াড় দলে টেনেছে। ফ্লোরিয়ান উইটস, হুগো একিতিকে, জেরেমি ফ্রিমপং, মিলোস কেরকেজ ও জর্জি মামারদাশভিলির মতো নামের পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড। এর মধ্যে শুধু খেলোয়াড়ের দামই নয়, চুক্তির মেয়াদ অনুযায়ী বেতন ও এজেন্ট ফি-ও ধরা হয়েছে।

এত খরচের পরও নিউক্যাসল ইউনাইটেডের আলেকজান্ডার ইসাককে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে টানার মতো সামর্থ্য রাখছে লিভারপুল।

গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় করেছে লিভারপুল—৭০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি। ট্রান্সফার সংক্রান্ত ঋণও অন্যান্য শীর্ষ দলগুলোর তুলনায় অনেক কম। ক্লাবের কাছে আরও রয়েছে সম্প্রসারিত ৩৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের ঋণ সুবিধা, যেটি প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা যাবে। এসব কারণেই তারা প্রিমিয়ার লিগের ‘লাভ ও স্থায়িত্ব বিধি’ (পিএসআর) এর মধ্যে থেকেই এত বড় খরচ করতে পারছে।

এই গ্রীষ্মে খেলোয়াড় বিক্রি করেও প্রায় ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড আয় করেছে লিভারপুল। এর মধ্যে লুইস দিয়াসকে বায়ার্ন মিউনিখে বিক্রি করে এসেছে ৬৫.৬ মিলিয়ন পাউন্ড, যেখানে কাগজে-কলমে মুনাফা ৪৮ মিলিয়নের বেশি। তাছাড়া ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড, জারেল কোয়ানসাহ, নাট ফিলিপস ও কাওইমিন কেলেহারদের বিক্রি থেকেও ভালো আয় হয়েছে।

নতুন পাঁচ খেলোয়াড়ের বার্ষিক খরচ পড়বে আনুমানিক ৫৬.৩ মিলিয়ন পাউন্ড, যেটি তারা ইতোমধ্যে খেলোয়াড় বিক্রির মাধ্যমেই পুষিয়ে ফেলেছে। যদি ইসাককেও তারা দলে টানে, তাহলে তার সম্ভাব্য বার্ষিক খরচ হবে ৪৩.৪ মিলিয়ন পাউন্ড। ফলে চলতি মৌসুমের আর্থিক ভারসাম্যে বড় কোনো ধাক্কা লাগবে না।

যদিও এখন আর্থিকভাবে স্বচ্ছল অবস্থানে রয়েছে লিভারপুল, তবে দীর্ঘমেয়াদে এত বড় বিনিয়োগের কারণে নিরবিচারে খরচ চালানো সম্ভব হবে না। ভবিষ্যতে তাদের বেতন খাতে নিয়ন্ত্রণ আনতে হতে পারে, রাজস্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা নিতে হতে পারে, এমনকি বড় কোনো খেলোয়াড় বিক্রির কথাও ভাবতে হতে পারে—যেমন ডারউইন নুনেস।

ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপের নেতৃত্বে লিভারপুল গত কয়েক বছর ধরেই অনেক হিসেব করে খরচ করছে। এবারও তারা একই পথেই হাঁটছে—অর্থনৈতিক সীমার মধ্যে থেকে স্কোয়াডকে আরও শক্তিশালী করা, নতুন কোচকে সময় উপযোগী দল দেওয়া এবং প্রতিযোগিতামূলক ধারায় শীর্ষে টিকে থাকার মতো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।

আলেকজান্ডার ইসাককে যদি শেষ পর্যন্ত তারা দলে টানতে পারে, তবে সেটা হবে শুধু লিভারপুলের ইতিহাসে নয়, ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসেই সবচেয়ে বড় দলবদলগুলোর একটি। এই চুক্তি হবে প্রতীকী এক বার্তা—লিভারপুল আবারও ইউরোপিয়ান শীর্ষ মঞ্চে দাপট বজায় রাখতে প্রস্তুত।