জাতীয় দলের পেসার তাসকিন আহমেদের বিরুদ্ধে ঘনিষ্ঠ বন্ধু সিফাতুর রহমান সৌরভের মারধরের অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠেছিল তীব্র আলোচনার ঝড়। অনেকেই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে শুরু করেন তাসকিনের ব্যক্তিত্ব ও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা। যদিও তাসকিন শুরু থেকেই এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে আসছিলেন।
শেষমেশ সেই বিতর্কের আপাতত অবসান ঘটল। বুধবার রাতে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সিফাতুর রহমান সৌরভ জানান, দুই পরিবারের সম্মতিতে ও পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হয়েছে এবং তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ তুলে নিয়েছেন।
সৌরভ বলেন, 'দুই পরিবার মিলে মুচলেকা দিয়ে অভিযোগ তুলে নেওয়া হয়েছে। মিউচুয়ালি সমাধান হয়ে গেছে। বন্ধুদের মধ্যকার কথা কাটাকাটি থেকেই ঝামেলার শুরু। এর আগে আমি সরি বলিনি, অভিযোগও তুলে নিইনি। আজ পারিবারিকভাবে বসে বিষয়টি মিটমাট হয়েছে।'
সৌরভ আরও জানান, তাসকিনের বাবা সম্পর্কের দিক থেকে তার নানা হন। তাই ব্যক্তিগত সম্পর্কের দিক থেকেও বিষয়টি জটিল ছিল। 'তাসকিন ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরাও নিজেদের দিক থেকে বসেছিলাম। পরিস্থিতি যদি শুরুতেই অনুকূলে থাকত, তাহলে আগেই সমাধান হতো,' বলেন তিনি।
তবে বন্ধুত্বের অতীত স্মৃতি মেনে নিলেও, তাসকিনকে নিয়ে এখন কিছুটা মানসিক আঘাত বয়ে বেড়াচ্ছেন বলেই জানিয়েছেন সৌরভ, 'তাসকিন আমার ছোটবেলার বন্ধু। বাংলাদেশের জন্য তার অনেক কিছু দেওয়ার আছে, শুভকামনা থাকল। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি এখনো একটু ট্রমাটাইজড। আমাকে এই ব্যাপারে সময় নিতে হবে।'
এদিকে সৌরভের খালা ঝুমা খান জানান, '৪৮ ঘণ্টার সময় চেয়েছিলাম। আজ উনারা (তাসকিনপক্ষ) এসে সময় নিয়ে মুচলেকা দেন এবং পারিবারিকভাবে মীমাংসা হয়। আমাদের অভিযোগ ছিল মূলত সৌরভের নিরাপত্তার কথা ভেবেই, ভবিষ্যতে যাতে এমন কিছু না হয়, সেটাই নিশ্চিত করা হয়েছে।'
এর আগে তাসকিন নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিলেন, 'এটা ভিত্তিহীন খবর। আমার আরেক বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল অন্য একজনের, দুজনই আমার বন্ধু। সে ভুল করে আমার নাম বলে দিয়েছে, আমার সঙ্গে ওর কোনো ঝগড়াই হয়নি।'
তাসকিন আরও বলেন, 'আমি সবাইকে অনুরোধ করব, গুজবে বিভ্রান্ত হবেন না। এটা আমার, আমার পরিবার ও আমার বন্ধুর জন্য সম্মানজনক না।'
পারিবারিক সমঝোতার মাধ্যমে এই বিতর্ক আপাতত থেমে গেলেও, এটি স্মরণ করিয়ে দেয়—জনপ্রিয়তা যেমন সম্মান বয়ে আনে, তেমনি ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা কখনো কখনো আলোচনার কেন্দ্রে এনে ফেলে জাতীয় দলের তারকাদেরও।