ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগে আসন পুনর্বিন্যাসের খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ খসড়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসন থেকে তিনটি ইউনিয়ন (বুধন্তী, চান্দুরা ও হরষপুর) কেটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব ঘিরে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন প্রস্তাবিত সীমানা পুনর্বিন্যাসের খসড়া তালিকা প্রকাশ করার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকার নাগরিকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ক্ষোভ ও আপত্তি প্রকাশ করছেন।
এর আগে ২০০৯ সালে তিতাস পূর্বাঞ্চল অথাৎ বিজয়নগর উপজেলার এ তিনটি ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে যুক্ত করা হয়েছিল। পরে বিজয়নগর উপজেলার এ ৩টি ইউনিয়নকে ২০১৪ সালে আবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে ফিরিয়ে আনা হয়।
স্থানীয় নাগরিক সমাজ, রাজনীতিক এবং তরুণদের মতে, এই তিনটি ইউনিয়ন বিচ্ছিন্ন হলে বিজয়নগরের প্রশাসনিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা বলছেন, একটি উপজেলা যদি প্রশাসনিকভাবে এক থাকে কিন্তু সংসদীয়ভাবে বিভক্ত হয়, তাহলে জনসেবা, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হবে।
বিজয়নগরের ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে কেটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে যুক্ত করার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করেছে বিজয়নগরবাসী।
এতে অংশ নেন নানা শ্রেণি-পেশার লোকজন। এ নিয়ে আগামীকাল শুক্রবার সকালেও বিজয়নগর সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদ ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ ডাকা হয়েছে। এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজয়নগর উপজেলার জনগণের পক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশন বরাবর আপত্তি জানিয়ে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ আতাউল্লাহ। এসময় বিজয়নগরের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ১০ আগস্ট পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকার নাগরিকরা লিখিতভাবে আপত্তি, পরামর্শ ও সুপারিশ জমা দিতে পারবেন। পরে তা যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সীমানা পুনর্নির্ধারণে জনগণের মতামত ও আপত্তি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করা হবে। প্রশাসনিক কার্যকারিতা, ভৌগোলিক যুক্তি ও জনসংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখা আমাদের মূল লক্ষ্য।
উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম ১০ ইউনিয়ন নিয়েই পরিচালিত হলেও, সংসদীয় নির্বাচনে বিভক্ত হলে তাতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং অভিভাবকত্বের প্রশ্নে দ্বিধা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। একজন সাবেক স্থানীয় সরকার কর্মকর্তা বলেন, একটি উপজেলা যদি জাতীয় সংসদে একাধিক আসনে বিভক্ত হয়, তাহলে জনগণ বুঝতেই পারে না কে তাদের প্রকৃত এমপি। এতে দায়বদ্ধতার ঘাটতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।