পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের একটি বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী আদালত বৃহস্পতিবার পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর বেশ কয়েকজন নেতাকে ২০২৩ সালের ৯ মে সিভিল লাইনস থানায় সংঘটিত সহিংসতার মামলায় ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন, জাতীয় পরিষদের বিরোধী দলীয় নেতা ওমর আইয়ুব, শিবলি ফারাজ, জরতাজ গুল এবং অন্যান্য পিটিআই নেতা।
আদালতের রায় অনুযায়ী, মোট ১৮৫ অভিযুক্তের মধ্যে ১০৮ জনকে দণ্ডিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিলের প্রধান এমএনএ সাহিবজাদা হামিদ রজা, যাকেও ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সাবেক পিটিআই নেতা ফাওয়াদ চৌধুরী, জয়ন কুরেশি এবং খায়াল কাস্ত্রোকে আদালত খালাস দিয়েছে।
সিভিল লাইনস থানায় দায়ের করা দ্বিতীয় মামলায়, ৩২ জন অভিযুক্তের মধ্যে ২৮ জনকে দণ্ডিত করা হয়েছে এবং ৪ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
এই মামলায় মোট ১০৭ জনের নাম ছিল, যাদের মধ্যে ৩২ জনের বিচার হয়। ফাওয়াদ চৌধুরী, জয়ন কুরেশি ও খায়াল কাস্ত্রো খালাস পাওয়া চারজনের মধ্যে রয়েছেন।
ঘুলাম মুহাম্মদাবাদ থানায় দায়ের করা আরেকটি মে ৯–সম্পর্কিত মামলায়, ৬০ জনকে দণ্ড এবং ৬৭ জন অভিযুক্তের মধ্যে ৭ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় জুনাইদ আফজাল সাহিকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালের ৯ মে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের গ্রেপ্তারের পর সারা দেশে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এই সহিংসতায় সরকারি সম্পত্তি এবং সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়, যার মধ্যে ছিল লাহোরে কর্পস কমান্ডার হাউজ, যা ‘জিন্নাহ হাউজ’ নামেও পরিচিত।
উল্লেখ্য, ইসলামাবাদ হাই কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ইমরান খানকে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার করার পরেই এই দাঙ্গা শুরু হয়।
অনেক পিটিআই নেতা ও কর্মীকে পরে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়, তবে অনেকেই এখনও কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
ইমরান খান ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন। তিনি ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে বন্দি।