নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে কূটনীতিকদের সরিয়ে নিচ্ছে ইসরায়েল। প্রত্যাহারের নির্দেশ পাওয়া কূটনীতিকদের মধ্যে অন্যতম— রাষ্ট্রদূত ইয়োসেফ আভ্রাহাম শেলি। সংযুক্ত আরব আমিরাত ভ্রমণে ইসরায়েলিদের জন্য দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এনএসসি) সতর্কতা জারির পর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরায়েলি ও ইহুদি নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার সম্ভাবনার বিষয়ে সতর্ক করেছে, বিশেষ করে ইহুদি উৎসব এবং শাব্বাতের সময়।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আমরা এই ভ্রমণ সতর্কতা জোরদার করছি; কারণ আমাদের ধারণা, সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলো (যেমন: ইরান, হামাস, হিজবুল্লাহ ও গ্লোবাল জিহাদ) ইসরায়েলের ক্ষতি করার চেষ্টা বাড়াচ্ছে।’
সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত আসে এমন এক সময়ে এসেছে যখন— সংযুক্ত আরব আমিরাত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইয়োসেফ আভ্রাহাম শেলিকে আর গ্রহণ করতে রাজি নয় বলে জানিয়েছে।
সূত্রের বরাতে খবরে বলা হয়, শেলি একটি বারে ‘অশোভন’ আচরণের অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মিডল ইস্ট আই জানায়, সপ্তাহের শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে থেকে শেলির বিরুদ্ধে তিনটি ঘটনার জন্য কূটনৈতিক অভিযোগ জানানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়, শেলি বারবার অশোভন আচরণ করেছেন এবং আমিরাতের নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন।
টাইমস অফ ইসরায়েল জানিয়েছে, শেলি আবুধাবির একটি বারে ‘সীমা’ অতিক্রম করেন এবং তার আচরণ ‘অশোভন’ বলে বিবেচিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে আমিরাতের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে দেশটির ইসরায়েলি ও ইহুদি সম্প্রদায় আরও বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক মার্কিন মধ্যস্থতায় আব্রাহাম অ্যাকর্ডস নামে পরিচিত চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়।