চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-৬ ও রিহ্যাবের যৌথ উদ্যোগে ‘উৎসে কর কর্তন ওয়ার্কশপ’ অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-৬ ও রিহ্যাব চট্টগ্রাম রিজিওনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে মতবিনিময় সভা ও ‘উৎসে কর কর্তন ওয়ার্কশপ-২০২৫’। রবিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম ক্লাবে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন রিহ্যাব ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন।

তিনি কর কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রিহ্যাব সদস্য প্রতিষ্ঠানসমূহের কর-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো তুলে ধরেন এবং যৌক্তিক দাবিদাওয়া উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ফাইল অডিটের সময় রিহ্যাবকে অবহিত করলে সদস্য প্রতিষ্ঠানসমূহ উপকৃত হবে এবং অহেতুক ভীতি দূর হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজন হলে রিহ্যাব কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে প্রস্তুত।

তিনি আরও বলেন, কর নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও বাস্তবতা নিশ্চিত করা হলে কর পরিশোধে সদস্য কোম্পানিগুলো সবসময়ই প্রস্তুত। তবে অস্বাভাবিক বা একতরফা কর নির্ধারণে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। অনেক সময় সময়মতো নোটিশ না পাওয়ার কারণে সদস্য প্রতিষ্ঠান খেলাপি হয়ে যায়। কিন্তু আয়কর কর্তৃপক্ষ হিসাবে প্রদর্শিত ব্যাংকের নাম থেকে ব্যাংক এটাচম্যান্ট দিয়ে থাকে। এটি সদস্য কোম্পানিগুলোর জন্য বিব্রতকর, ব্যাংক বা বাজারে সুনাম নষ্ট হয়।

তিনি দীর্ঘমেয়াদী কর সমস্যার ক্ষেত্রে রিহ্যাবকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান, যাতে পারস্পরিক সহযোগিতায় সমাধানের পথ সুগম হয়।

রিয়েল এস্টেট খাতে কর সংক্রান্ত কোনো প্রণোদনা না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে দেলোয়ার হোসেন বলেন, অন্যান্য খাতে সরকার কর অব্যাহতি বা হ্রাসকৃত কর হার প্রদান করলেও এই শিল্প তা থেকে বঞ্চিত। তিনি রিয়েল এস্টেট খাতের জন্যও অনুরূপ প্রণোদনার দাবি জানান।

প্রতি বছর আর্থিক আইন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রিহ্যাবকে সম্পৃক্ত করে তাদের মতামত গ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি। ১৪৭ ধারার কার্যক্রমে রিহ্যাব সদস্য কোম্পানিগুলো আতঙ্কের মধ্যে থাকে এবং একটি ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এটিকে আরও সহজবোধ্য, সহযোগিতা মূলক ও সহনীয় করার আহ্বানও জানান।

রিহ্যাব সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, রিহ্যাব সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশের আবাসন সমস্যার সমাধান করে আসছে। আবাসন খাত দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি শিল্প, যা ৪০ লক্ষাধিক মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। এই খাতের ধ্বস দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করতে পারে। তাই আয়কর বিভাগের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি।

সভায় কর কমিশনার ফরিদ আহমেদ রিহ্যাবের প্রস্তাবসমূহ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও সুপারিশ করার আশ্বাস দেন।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রিহ্যাব পরিচালক ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির কো-চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোরশেদুল হাসান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কর বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মোসাম্মৎ মাকসুদা ইসলাম, যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম, উপ-কর কমিশনার ও সহকারী কর কমিশনারবৃন্দ, রিহ্যাব চট্টগ্রাম রিজিওনের নেতৃবৃন্দ সৈয়দ ইরফানুল আলম, শারিস্থ বিনতে নূর, নূর উদ্দীন আহাম্মদ, মোহাম্মদ মাঈনুল হাসান এবং রিহ্যাব সদস্য প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তাবৃন্দ। রিহ্যাবের পক্ষে ভ্যাট ও ট্যাক্স বিষয়ে পরামর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. এরাদাত উল্যাহ।