যশোরে ইজিবাইক চালক হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

ইজিবাইক চালক আল আমিন হোসেন হত্যা মামলায় পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া আসামি জুয়েল খানসহ ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৪০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। মামলার অপর এক আসামি রাসেল মোল্যাকে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক জয়ন্তী রানী দাস রবিবার এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এস এম আব্দুর রাজ্জাক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মাগুরার শালিখা উপজেলার রামপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর খানের ছেলে জুয়েল খান, সেলিম হোসেনের ছেলে হারুন অর রশিদ ও যশোর সদর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের হযরত আলীর ছেলে আলামিন। অপরদিকে ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি রাসেল মোল্যা পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সবুজনগর গ্রামের সুলতান মোল্যার ছেলে। বর্তমানে তিনি যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া বিল্লাল মসজিদ এলাকার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় আসামি হারুন অর রশিদ ও রাসেল মোল্যার আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুর রাজ্জাক মামলার বিবরণ থেকে জানান, মাগুরার শালিখা উপজেলার হরিশপুর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে আল আমিন হোসেন (২১) পেশায় একজন ইজিবাইক চালক ছিলেন। প্রতিদিনের মতো ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর বিকালে তিনি বাড়ি থেকে বের হন, কিন্তু রাত ৮টার মধ্যে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরদিন দুপুরে মোস্তাফিজুর রহমানের খালা জাহানারা ফোনে জানান, একটি ইজিবাইক যশোরের চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়িতে রয়েছে। সেখান থেকে আল আমিনের ইজিবাইক শনাক্ত করা হয়, তবে সেটির ব্যাটারি ও অতিরিক্ত চাকা ছিল না।

১১ ডিসেম্বর দুপুরে আল আমিনের চাচাতো ভাই তরিকুল ইসলামের মাধ্যমে জানা যায়, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বুধোপুর এলাকার রাস্তার পাশে একটি লাশ পড়ে আছে। পরে পুলিশ সেই লাশ উদ্ধার করে এবং মোস্তাফিজুর রহমান বাঘারপাড়া থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০২১ সালের ২৫ ডিসেম্বর র‌্যাব অভিযান চালিয়ে এই মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৫ মে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

ওই মামলায় আসামি জুয়েল খান, হারুন অর রশিদ ও আলামিনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও ৪০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং আসামি রাসেল মোল্যার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালতের বিচারক।

আসামি জুয়েল খান গত ১৮ মে যশোরের আদালত চত্বর থেকে পুলিশের হেফাজত হতে পালিয়ে যান। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তাকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।