কিম জং উন সরকারের সমালোচনার জন্য উত্তর কোরিয়া সীমান্তে স্থাপন করা লাউডস্পিকার (প্রচারযন্ত্র) সরিয়ে নিতে শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। এসব স্পিকারের মাধ্যমে এতদিন উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রচার চালানো হতো। সোমবার থেকে এসব লাউড স্পিকার সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, গত জুনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে লি জে মিয়ং দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সীমান্তে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রচার চালানো সম্প্রচার বন্ধ করে দেন। তার নেতৃত্বাধীন উদারপন্থী সরকার পিয়ংইয়ং-এর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি দুই কোরিয়ার মধ্যকার স্থবির সংলাপ পুনরায় শুরুর আশায় উত্তেজনা কমানোর পথে হাঁটছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই প্রচারযন্ত্রগুলো অপসারণ একটি ‘বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ’, যা যুদ্ধবিভক্ত দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
তবে মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, এটি দক্ষিণের সামরিক প্রস্তুতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লি কিয়ং-হো জানান, এই স্পিকার সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কোনো সামরিক আলোচনা হয়নি। স্পিকারগুলো ভবিষ্যতে দ্রুত ফেরত বসানো সম্ভব কি না, কিংবা কীভাবে সেগুলো সংরক্ষণ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়া বাইরের সমালোচনার ব্যাপারে অত্যন্ত সংবেদনশীল, বিশেষ করে তাদের নেতা কিম জং উনের বিরুদ্ধে প্রচারের ক্ষেত্রে। দক্ষিণ কোরিয়ার এই সিদ্ধান্তে পিয়ংইয়ং এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এর আগে গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণশীল সরকার কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর ফের প্রতিদিনের প্রচার চালু করে। প্রচারযন্ত্রে কেবল কিম সরকারের সমালোচনাই নয়, বরং কে-পপ গানও বাজানো হতো, যা পিয়ংইয়ং-এর সাংস্কৃতিক দমন নীতির বিরুদ্ধে এক ধরনের সাংস্কৃতিক আঘাত ছিল। জবাবে উত্তর কোরিয়া আবর্জনাভর্তি বেলুন পাঠিয়ে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ শুরু করেছিল।
রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের স্থলাভিষিক্ত হয়ে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ লি জে মিয়ং। তবে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার এই উদারপন্থী সরকারের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সিউলের ‘অন্ধ আনুগত্য’ এবং উত্তর কোরিয়ার প্রতি বৈরিতার মনোভাব দেখে তাদের বর্তমান প্রশাসনকেও আগের সরকারের মতোই মনে হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে উত্তর কোরিয়ার রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠায় তারা আপাতত দক্ষিণ কোরিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখছে না।