পুরনো বন্দোবস্ত জায়গা করে নেওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে: জোনায়েদ সাকি

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, বারবার শহীদের কথা বলি, কারণ পুরনো বন্দোবস্ত জায়গা করে নেওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার হবে আমাদের এই রাষ্ট্রের নতুন যাত্রার প্রথম লক্ষণ। শহীদ জুলফিকার আহমেদ শাকিলসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সোমবার, ঢাকার মিরপুর ১০ আইডিয়াল গার্লস স্কুলের পাশে সমাবেশ, মোমবাতি প্রজ্বলন, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী ও স্মৃতিচারণের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

জোনায়েদ সাকি বলেন, কথা ছিল, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে। কিন্তু শহীদ পরিবারগুলো হাহাকার করে বিচার প্রক্রিয়া কত দূর ভেবে। একটা রাষ্ট্র সত্যিকার অর্থে জনগণের রাষ্ট্র হয়ে উঠছে কিনা, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারছে কিনা তা নির্ভর করে রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার দেওয়ার সক্ষমতা ওপর।

তিনি বলেন, আমাদের শহীদ এবং যারা আহত তারা এই জাতিকে গৌরবান্বিত করেছেন। তারা প্রমাণ করেছেন, আমাদের দেশের মানুষ মৃত নয়, তারা অন্যায়ের বিরোধিতা করে ও শেষপর্যন্ত লড়াই করে খুনীদের ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করে আমাদের গৌরবান্বিত করে গেছেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, যখন মিরপুর-১০ দখল হয়ে গিয়েছিল, তখন অন্য সহযোদ্ধাদের নিয়ে শহীদ শাকিলরা জনগণের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই প্রতিরোধ সমরে খালি হাতে লড়াই সংগঠিত করেছিলেন তারা। আওয়ামী পুলিশ ও সশস্ত্র গুণ্ডাবাহিনী একসাথে জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সেখানে। ৪ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে তিন দিন কোমায় থাকার পর শহীদ শাকিল শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ছাত্র ফেডারেশনের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবান্বিত কাজটি শহীদ শাকিল করে গিয়েছেন। ছাত্র ফেডারেশন যত দিন টিকে থাকবে তত দিন এই সংগঠনকে শহীদ শাকিল যুগে যুগে গৌরবান্বিত করে যাবেন। শহীদ শাকিলের সততা, দেশপ্রেম ও এই দেশের মানুষের মুক্তির সংগ্রামকে ধারণ করার অঙ্গীকারকে ধারণ করা ছাত্র ফেডারেশনের প্রতিটি নেতা, কর্মী, সদস্যের দায়িত্ব। তিনি বলেন, আমরা গণসংহতি আন্দোলন যেভাবে জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার কাজ করে যাচ্ছি, তাতে দিশা দেখাবেন শহীদ শাকিল।

সাকি আরও বলেন, কোনো শহীদের মামলা ও বিচারকে রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে ফেলতে আমরা দেব না। আমরা প্রতিটি হত্যার বিচার ও ন্যায়বিচার চাই। এই ন্যায়বিচার হবে আমাদের রাষ্ট্রের নতুন যাত্রার প্রথম লক্ষণ। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনাল ও কর্মকর্তা বাড়িয়ে বিচার প্রক্রিয়াকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আহবান জানান।

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ, শহীদ শাকিলের স্কুল আমাদের পাঠশালার প্রধান শিক্ষক তোফাজ্জল হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের মিরপুর পল্লবী থানার সদস্য সচিব প্রদীপ রায়,  ঢাকা মহানগর উত্তরের সংগঠক সাইফুল্লাহ সিদ্দিক রুমন এ সময় বক্তব্য দেন।

ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব মাহবুব রতনের সভাপতিত্বে ও ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা মহানগরের নেতা ইয়াসিন খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আখতার, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য দীপক কুমার রায়, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলীফ দেওয়ান ও সৈকত মল্লিক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য হাসান আশরাফ, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহীম চৌধুরী; ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় স্কুল বিষয়ক সম্পাদক হাসান আল মেহেদী, সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব ইরান ও আশরাফুল আলম সোহেল, ঢাকা মহানগরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাকন বিশ্বাস।

বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূইয়া, মিরপুরের সংগঠক রতন তালুকদার; ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবু রায়হান খান, রুপনগর থানার সংগঠক লুৎফরনাহার সুমনাসহ শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাই যোদ্ধা, অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।